রাশিয়া জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েল থেকে নিজেদের কূটনৈতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ৬ জানুয়ারী থেকে রাশিয়ার নিজের দূতাবাসের কর্মী এবং তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে, এতে ধারণা করা হচ্ছে যে মস্কোর কাছে কোনো ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ আছে।
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী এক্স-এর একটি চ্যানেল ডেইলি ইরান নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া তার কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নিতে তৃতীয়বারের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সুসংগঠিতভাবে এবং দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। যদিও এসব তথ্যের পক্ষে খুব বেশি প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কিয়েভ পোস্ট।
এছাড়াও ইসরায়েলে অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের সরকারী চ্যানেলগুলোও এই ধরণের কোনও ঘোষণা দেয়নি, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা রুশ ও বিশ্বের অনান্য প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোও এই ধরণের কোনও সংবাদ প্রকাশ করেনি। এসব তথ্য ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা থেকে উদ্ভূত বলেও জানায় ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমটি।
The Russian army is urgently evacuating the staff of the Russian embassy along with their families in Israel and returning them to Russia. This is the third flight by Russia in the past 24 hours to evacuate its embassy in Israel.
— Daily Iran News (@DailyIranNews) January 7, 2026
There are some news that Russia has been informed… pic.twitter.com/Mkd38cq4ZE
অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থন ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তেহরানে আসীন ইসলামপন্থি সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে, তাহলে যে কোনো সময় ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলের সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির আইডিএফ নিয়ে ৪ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ এই প্রস্তুতি। তিন দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইরানকে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা- অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যায় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে— সাধারণ জনগণের মনোযোগ সেখান থেকে সরাতে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান।
ইরানের সেনা প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামিও সম্প্রতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আগাম সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার তেহরানে ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে হাতামি বলেছেন, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, এই ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান প্রস্তুতি ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি।’
সূত্র: কিয়েভ পোস্ট, তাসনিম
এমএইচআর

