বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাপ্রধানের

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি। 

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র বা ইহুদিবাদী ইসরায়েল সরকারের হস্তক্ষেপের কোনও বিষয় নয় উল্লেখ করে তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান। 

তেহরানে ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে জেনারেল আমির হাতামি আরও বলেছেন, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, এই ধরনের বক্তব্য সহ্য করা হবে না। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান প্রস্তুতি ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি ভুল করে, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে। ইরান যেকোনো আক্রমণকারীর হাত কেটে ফেলবে।।’

নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞাগুলোর মাধ্যমে শত্রুরা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানি জনগণের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল আমির হাতামি। 

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো ইরানও কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে যার সমাধান করা আবশ্যক, তবে শত্রুরা জনগণের ক্ষতি করার ওপর বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে, এটি এমন একটি বাস্তবতা যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কমান্ডার হাতামি আরও বলেন, ইরানি জনগণের জীবিকা এবং পেশাগত বিক্ষোভের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ইহুদিবাদী ইসরায়েলি সরকারের অপরাধী প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কোনও সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাপক উসকানি সত্ত্বেও ইরানে জনগণ দাঙ্গাকারীদের পক্ষে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কাঙ্ক্ষিত পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। 

উল্লেখ্য, নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভের গত ১০ দিনে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে নিহত হয়েছেন মোট ৩৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনন। নিহতদের মধ্যে চার জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের সঙ্গে সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজার ৭৬ জনকে।

এর মধ্যে গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তেহরানে আসীন ইসলামপন্থি সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে, তাহলে যে কোনো সময় ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হুমকি দেওয়ার পর খানিকটা সতর্ক হয় ইরানের সরকার। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, পাশাপাশি বলেছেন— শত্রুদের কাছে নতিস্বীকার করবে না ইরান।


সূত্র: তাসনিম, বিবিসি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর