সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদের শান্তি আলোচনায় অংশ না নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার গভীর রাতে আল-জুবাইদি এডেন থেকে বেরবেরা (সোমালিল্যান্ড) যাওয়া একটি জাহাজে করে পালান। এরপর আরব আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিমানে উঠে সোমালির রাজধানী মোগাদিশুতে পৌঁছান।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বিমানটি ওমানের উপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল, এবং আবুধাবির আল রিফ সামরিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর দশ মিনিট আগে পুনরায় চালু করা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই ঘটনার পেছনে আল-জুবাইদির ইচ্ছাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বুধবার ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমের ঢালে প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। আরব আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার নিজ প্রদেশে এ হামলা চালানো হয়। রিয়াদে আলোচনায় হাজির না হওয়া এবং দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল সংস্থা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই এ হামলা হয়।
গত মাসে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর আলোচনার জন্য রিয়াদে আসতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার প্রতিনিধিদল বহনকারী বিমানে ওঠেননি; পরে তাকে সেখানে ‘বৃহৎ বাহিনী’ সমাবেশের অভিযোগ এনে তার নিজ প্রদেশ হামলা চালায় জোট।
বিজ্ঞাপন
আমিরাত একটা সময় পর্যন্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অংশ ছিল। কিন্তু পরে আমিরাত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের শরিক সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি) আলাদা করা সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ দিতে শুরু করে। এটা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে (এসটিসি) গত মাসে সৌদি সীমান্তবর্তী হাজরামাওত এবং এর পার্শ্ববর্তী মাহারা প্রদেশের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। অবশ্য পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনের মিত্র বাহিনী ঠেকিয়ে দেয় এসটিসির অগ্রযাত্রা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর

