ইরানের বিরুদ্ধে মুখে আস্ফালন করলেও তেহরানের ভয়ে শিটিয়ে আছে দখলদার ইসরায়েল। ইরানকে ঠাণ্ডা করতে তাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধরেছেন ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
পুতিনের মাধ্যমে 'ইসরায়েল যুদ্ধ চায় না' বলে ইরানকে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন আতঙ্কিত নেতানিয়াহু। খবর দ্য জেরুজালেম পোস্টের।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও জেরুজালেমের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর নেতানিয়াহু পুতিনকে ইরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফোন করেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার ইসরায়েলের আরেক গণমাধ্যম কেএএন নিউজ জানিয়েছে, দখলদার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মাধ্যমে ইরানকে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে ওই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা ইসরায়েলের নেই।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুতিন গত অক্টোবরে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে একই রকম বার্তা পাঠিয়ে ছিলেন, তখনও তিনি ইরানকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ইসরায়েল "যুদ্ধ বাড়াতে আগ্রহী নয়"।
এদিকে, ইরান জুড়ে অশান্তি সৃষ্টির নেপথ্যে ইসরায়েল কলকাঠি নাড়ছে বলে ইহুদিবাদী দেশটির ওপর বেজায়চেটে আছে তেহরান। তার ওপর মার্কিন হুমকির পর ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে এবার দেখে নেওয়া পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
এর পর থেকেই মূলত- ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। সোমবার এক প্রতিবেদনে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির আইডিএফ নিয়ে ৪ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন।
সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ এই প্রস্তুতি। যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে স্যাটেলাইটে হামলা এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মতো বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইরানকে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা- অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যায় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে— সাধারণ জনগণের মনোযোগ সেখান থেকে সরাতে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে দাপ্তরিকভাবে ইরানের বিক্ষোভ সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে ইসরায়েলের সরকার।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলাখুলিভাবে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। সেই সঙ্গে মোসাদ দাবি করেছে যে ইরানে বিক্ষোভ সংগঠিত করতে তাদের হাত ছিল।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই হিমসিম খাচ্ছে ইরানের ইসলামি সরকার।
এর মধ্যে গত ১০ দিনে ২৯ জন নিহত এবং আটক হয়েছেন ১২০৩ জন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই এই সরকারের অবসান চেয়ে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পতন ঘটে ইরানের রাজতন্ত্রের এবং ক্ষমতায় আসে ইসলামপন্থি সরকার।
এদিকে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, ইরানের সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি কঠোর হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালাবে।
-এমএমএস

