সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে ধরে নেওয়ার আরও রেকর্ড আছে যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

UK
৩৬ বছর আগে ১৯৮৯ সালে পানামার তৎকালীন প্রধান জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ছবি- সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে গেছে ‘বিশ্ব মোড়ল’ যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর তাকে আটক করে নিউইয়র্কের জেলে বন্দি রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে নিকোলাস মাদুরোই প্রথম নন, অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার আরও রেকর্ড আছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মাদুরোকে আটকের পর আলোচনায় কেন্দ্রে চলে এসেছে সেই ঘটনা।  

৩৬ বছর আগের কথা। ১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়ে উৎখাত করা হয়েছিল দেশটির তৎকালীন প্রধান জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে। সেই অভিযানের পর নিকোলাস মাদুরোর মতই ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকেও তুলে নিয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

UK2
পানামার তৎকালীন প্রধান জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি- সংগৃহীত

সেই হামলার আগে ম্যানুয়েল নোরিয়েগার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, মাদুরোর বিরুদ্ধেও সেই একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটি অভিযানের নেপথ্যে এতটা মিলের কারণে পানামার সেই অভিযান এখন প্রাসঙ্গিক।


বিজ্ঞাপন


কী হয়েছিল তখন?

শুরুতে পানামার তৎকালীন শাসক জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর তাকে মাদক মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে হাজার হাজার মার্কিন সেনা একযোগে দেশটিতে প্রবেশ করে সামরিক অভিযান শুরু করে।

একসময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জেনারেল ম্যানুয়েল নোরিয়েগার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সেখান থেকে ফেরার সুযোগ আর ছিল না।

সে সময় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বলেছিলেন, ‘মার্কিন নাগরিকদের জীবন রক্ষার জন্য’ এবং নোরিয়েগাকে ‘বিচারের মুখোমুখি করার’ লক্ষ্যে পানামায় সামরিক বাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এই ঘোষণাটি আসে পানামার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর। নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এ অভিযোগে সে সময় নোরিয়েগার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত পানামার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও উঠেছিল নোরিয়েগার বিরুদ্ধে ।

UK3
ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটকের পর তার কয়েকজন সমর্থককেও আটক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র সে অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন জাস্ট কজ’, তাতে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা পানামায় প্রবেশ করে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। সরকারি হিসাবে এই আগ্রাসনে পানামার সেনা ও বেসামরিক নাগরিক মিলিয়ে ৫১৪ জন নিহত হয়।

তবে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি। অভিযানে ২৩ জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়। এই হামলার ফলে রাজধানী পানামা সিটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বড়দিনের সময়জুড়ে মার্কিন সেনারা দূতাবাসের বাইরে অবস্থান নেয় এবং তাকে বের করে আনতে দূতাবাসের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে সেখানে উচ্চ শব্দে রক সংগীত বাজাতে থাকে। এই সংগীতের তালিকায় ছিল দ্য ক্ল্যাশ, ভ্যান হ্যালেন ও ইউটু ব্যান্ডের গান।

সেসময় ১১ দিন দূতাবাসে অবস্থানের পর ১৯৯০ সালের ৩ জানুয়ারি নোরিয়েগা আত্মসমর্পণ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মকর্তারা তাকে বিমানে করে মায়ামিতে নিয়ে যান। সেখানে বিচারে তাকে মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

জীবনের বাকি সময়টুকু নোরিয়েগা কাটান কারাবন্দি অবস্থায়- প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে, পরে ফ্রান্সে এবং শেষে পানামায় গৃহবন্দি হিসেবে। ২০১৭ সালে ৮৩ বছর বয়সে নোরিয়েগার মৃত্যু হয়। মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচারের জটিলতা তার মৃত্যুর কারণ বলে জানানো হয়। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর