ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তার নিজ ভবন থেকে অপহণের ঘটনায় মার্কিন ওই সেনা অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া, ইরানসহ বহু দেশ।
সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কানাডাও। মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ট্রাম্পের আচরণে চরম বিরক্ত কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেছেন, কানাডা তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং ভেনেজুয়েলার ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভেনেজুয়েলায় সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিজ দেশ থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পরই শনিবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওই আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, কানাডা তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, একই সঙ্গে কলম্বিয়ার বোগোটায় কনস্যুলার কর্মকর্তা এবং দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে ভেনেজুয়েলায় আটকে পড়া কানাডিয়ানদের সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আসলে মাদক পাচারের দোহাই আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আড়ালে দেশটির তেল ও প্রকৃতিক সম্পদে কুদৃষ্টি পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের! খবর সিএনএনের।
অনেকের দাবি, ট্রাম্পের নজর আসলে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভাণ্ডারে। মাদুরোকে সরিয়ে আসলে তা অধিগ্রহণ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায়তে আপাতত তিনি এমন একজনকে বসাবেন, যিনি আমেরিকার ‘হাতের পুতুল’। সেই সুযোগেই দেশটির তেলভাণ্ডারে অবাধে রাজত্ব করতে চায় ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। আপাতত সেখানেই মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে মাদুরোকে বন্দি করে রাখা হবে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেনেজুয়েলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় সৈন্য ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, স্থলবাহিনী নামানোর আগে ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করতে একটি বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানো হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো মাদুরোর অবস্থানস্থলে সেনা নামাতে পারে।
তবে নিহতের সংখ্যা বা অভিযানের পরিধি সম্পর্কে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
-এমএমএস

