সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

অবিলম্বে মাদুরোর মুক্তি চাইলেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ এএম

শেয়ার করুন:

অবিলম্বে মাদুরোর মুক্তি চাইলেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি 

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে আপাতত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ দিলো দেশটির আদালত। 

ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। ক্ষমতা পেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ডেলসি। অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) অপরহণ করেছে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলায় ঢুকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

আপাতত তাদের রাখা হয়েছে নিউইয়র্কের ডিটেনশন ক্যাম্পে। এই পরিস্থিতিতে ডেলসিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার আদালত। ডেলসি দেশের সরকারি চ্যানেলে বিবৃতি দেন। 

তিনি বলেছেন, অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট হলেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার অভিযানকে ‘বর্বরোচিত’ বলে উল্লেখ করেছেন ডেলসি। মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আপাতত আমেরিকাই ভেনেজুয়েলা দেশটিকে চালাবে। 


বিজ্ঞাপন


এই ঘোষণার নিন্দা করে ডেলসি জানিয়েছেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে তারা প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।

ফ্লরিডা থেকে সংবাদ সম্মেলনে ডেলসিকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ডেলসির সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কথা হয়েছে। ভেনেজ়ুয়েলার উন্নয়নের জন্য আমেরিকা যা করতে চায়, ডেলসিও তা চান বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

ডেলসি কোথায় আছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স চারটি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ডেলসি এখন রাশিয়ায়। তার ভাই জর্জ রড্রিগেস ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান। তিনি রাজধানী কারাসকাসেই আছেন। মাদুরো ও তার স্ত্রী যে বেঁচে আছেন, সেই প্রমাণ দেখতে চেয়েছেন ডেলসি।

আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সংঘাত দীর্ঘ দিনের। ট্রাম্পের অভিযোগ, সেখান থেকে আমেরিকায় প্রতি বছর প্রচুর মানুষ অবৈধ ভাবে আমেরিকায় অনুপ্রবেশ করেন। 

তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগও উঠেছে বার বার। ট্রাম্পের দাবি, মাদুরো ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেনেজুয়েলার অপরাধীদের আমেরিকায় পাঠান। এ ছাড়া, আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাস চালানোর জন্যেও মাদুরো প্রশাসনকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ভেনেজুয়েলা হয়ে মাদকপাচারকারীরা আমেরিকায় ঢোকে। মূলত এই দুই কারণ দেখিয়ে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। 

অপহরণ এবং বন্দি করা হয়েছে মাদুরোকে। তবে কারও কারও দাবি, ভেনেজুয়েলার অফুরন্ত খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক সম্পদে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই এই হামলা।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর