সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাদুরোকে অপহরণ 

ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারে ট্রাম্পের কুদৃষ্টি! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারে ট্রাম্পের কুদৃষ্টি! 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সে দেশ থেকে আমেরিকার বাহিনী কেন অপহরণ করেছে? জানা গেল অবশেষে।

আসলে মাদক পাচারের দোহাই আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আড়ালে দেশটির তেল ও প্রকৃতিক সম্পদে কুদৃষ্টি পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের! খবর সিএনএনের।


বিজ্ঞাপন


অনেকের দাবি, ট্রাম্পের নজর আসলে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভাণ্ডারে। মাদুরোকে সরিয়ে আসলে তা অধিগ্রহণ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

trmpভেনেজুয়েলার ক্ষমতায়তে আপাতত তিনি এমন একজনকে বসাবেন, যিনি আমেরিকার ‘হাতের পুতুল’। সেই সুযোগেই দেশটির তেলভাণ্ডারে অবাধে রাজত্ব করতে চায় ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। আপাতত সেখানেই মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে মাদুরোকে বন্দি করে রাখা হবে। 

ট্রাম্প শনিবারই জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলার শাসন চালাবে আমেরিকা। কিন্তু কেন এই ক্ষমতা অধিগ্রহণ? দক্ষিণ আমেরিকার দেশের ওপর কিসের ক্ষোভ ট্রাম্পের?

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলভাণ্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় মার্কিন সেনার অভিযানের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাদের অনেকের মুখেই তেল সংক্রান্ত স্লোগান শোনা গিয়েছে। 

কেউ বলছিলেন, ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’, কেউ আবার বলছিলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না’। শিকাগোর ফেডেরাল প্লাজার সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার ওপর থেকে হাত তুলে নাও।’

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প যে অভিযান চালিয়েছেন, আমেরিকানেরা তার জন্য সম্মতি দেননি। কোনও ভোটাভুটি নয়। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার জন্য আমেরিকার নাগরিকেরা অনেকেই ক্ষুব্ধ।

ভেনেজুয়েলার আদালত অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে আপাতত সে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে। 

ডেলসি অবিলম্বে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সামনে মাথা নত না করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভেনেজুয়েলাকে এবং তার প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করবেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।

ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অপহরণের নেপথ্যে অন্য কারণ দেখিয়েছে আমেরিকা। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে অপরাধীরা অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন ছিল। 

এ ছাড়া, মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, আমেরিকার আদালতে বিচারের আওতায় আনা হবে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির চক্রান্ত, মেশিনগান ও অন্য ধ্বংসাত্মক অস্ত্র সঙ্গে রাখার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর