শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ‘ডেঙ্গু টিকা’ অনুমোদন দিল ব্রাজিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বে প্রথম এক ডোজের ‘ডেঙ্গু টিকা’ অনুমোদন দিল ব্রাজিল

বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা অনুমোদন দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। এটিকে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (২৬ নভেম্বর) ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা— এএনভিএসএ সাও পাওলোর বুটানটান ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বুটানটান ডিভি’ নামের এই টিকার ব্যবহার ১২ থেকে ৫৯ বছর বয়সিদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী মশাবাহিত এ রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিকভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছায়। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্বে একমাত্র অনুমোদিত ডেঙ্গু টিকা টিএকে০০৩, যা তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ নিতে হয়। তবে ব্রাজিলে আট বছর ধরে পরিচালিত পরীক্ষার পর উদ্ভাবিত এই একক ডোজ টিকা, দ্রুত এবং সহজ টিকাকরণ কর্মসূচি চালাতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুটানটান ইনস্টিটিউটের পরিচালক এস্পার কালাস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি ব্রাজিলে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য খাতে এক ঐতিহাসিক অর্জন। যে রোগ আমাদের দশকের পর দশক ভোগাচ্ছে, এখন সেটিকে শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব।’

তিনি জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেয় এবং নতুন টিকাটি গুরুতর ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।

এদিকে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রী আলেক্সান্দ্রে পাদিলহা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইতোমধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান উক্সি বায়োলজিক্সের-এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় তিন কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, ডেঙ্গুর অস্বস্তিকর উপসর্গের কারণে এটিকে ‘ব্রেকবোন ফিভার’ নামে ডাকা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বর ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ডেঙ্গু সংক্রমণ এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এদের বিস্তার এখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলসহ এমন এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগে সচরাচর দেখা যেত না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এক কোটি ৪৬ লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর অর্ধেক মৃত্যুই ঘটেছে ব্রাজিলে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওই বছর ডেঙ্গুর ১৯ শতাংশ ঘটনার জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দায়ী।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর 

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর