মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যে নতুন চুক্তি প্রস্তাব করেছে, তাতে ইউক্রেন সরকারের জন্য কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা রাখা হয়নি। এই চুক্তির মাধ্যমে, কিছু বিশেষ দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা ইঙ্গিত করে যে ইউক্রেন হয় রাশিয়ার দখলে চলে যাবে অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উপনিবেশে পরিণত হবে।
ব্রিটেনের একটি পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী— এই চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, এবং বিশেষ করে যুদ্ধে ইউক্রেনকে যেসব আর্থিক এবং সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণে চার শতাংশ সুদ যুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা হলো ইউক্রেনের বেশিরভাগ শিল্প উৎপাদন খাত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনা। ইউক্রেনীয় এমপিরা বলছেন— প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তাও এটি ইউক্রেনের সংসদে অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ইউক্রেনীয় সংসদের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এই চুক্তি আন্তর্জাতিক আইন এবং ইউক্রেনের সংবিধানকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করেছে।
এই নতুন খনিজ চুক্তিটি একটি বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে মার্কিন আইনের অধীনে তৈরি করা হয়েছে, তবে এর বাস্তবায়ন ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে হবে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র তেল-গ্যাসসহ সব খনিজ সম্পদের উপর রয়্যালটি ভাগ করে নেবে। ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের ভাগ ডলারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে, এবং এই অর্থ একটি মিউচুয়াল ফান্ডে রাখা হবে। তবে, এই ফান্ডের পরিচালনা পর্ষদের পাঁচজন সদস্যের তিনজনই হবে আমেরিকার নাগরিক।
এছাড়া, চুক্তির আওতায় ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলো—যেমন ট্রেন, রাস্তা, বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দর, পাইপলাইন, প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট এবং শোধনাগার—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। খনিজ সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা থাকবে, যার মানে হলো ইউক্রেন নিজের ইচ্ছামতো কোনও ক্রেতা নির্বাচন করতে পারবে না।
মনে করা হচ্ছে— ট্রাম্পের ‘দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল’ বইয়ের অনুপ্রেরণায় এই চুক্তি সাজানো হয়েছে, যেখানে অন্য পক্ষকে দুর্বল অবস্থানে রেখে চুক্তি স্বাক্ষর করার চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে তারা ছাড় দিতে রাজি হয়। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
বিজ্ঞাপন
এইউ