সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

জার্মানিতে ২০ হাজার হাতি পাঠানোর হুমকি বতসোয়ানার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

জার্মানিতে ২০ হাজার হাতি পাঠানোর হুমকি বতসোয়ানার!
ছবি: এপি

ইউরোপের দেশ জার্মানিতে ২০ হাজার হাতি পাঠানোর হুমকি দিয়েছে আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানা। দেশটিতে হাতি শিকারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে জার্মানি। এতে সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনার। এমন অবস্থায় এই হুমকি দিলেন বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট। 

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) জার্মান সংবাদপত্র দ্য বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুমকি দেন। খবর বিবিসির
 
বিশ্বের মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ বাস করে বতসোয়ানায়। যার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি। এই কারণে দেশটি যুগের পর যুগ হাতি শিকারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: সুদানের অনাহারের ঝুঁকিতে ৫০ লাখ মানুষ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাতি শিকারের পর তা থেকে প্রাপ্ত আইভরি, চামড়া ও মাংস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করত বতসোয়ানা। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে জার্মানিতে এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কঠোর বিধি–নিষেধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

জার্মানির এই বিধিনিষেধ বতসোয়ানার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, দেশটির আয়ের একটি অংশ আসে এই হাতি সংক্রান্ত খাত থেকে। পরিবেশ ও প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, দেশটিতে হাতির সংখ্যা বেড়ে গেলে বিদ্যমান বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে।

প্রচুর পরিমাণে হাতি থাকায় শিকারে উৎসাহিত করে বতসোয়ানা সরকার। এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ। বিষয়টি আমলে নিয়ে বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট মোকগউইৎসি মাসিসি জার্মান গণমাধ্যম বিল্ডকে জানিয়েছেন, জার্মানির এই বিধিনিষেধ বতসোয়ানার মানুষের দারিদ্র্যের কারণ হতে পারে।


বিজ্ঞাপন


বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিভিন্ন সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বতসোয়ানায় হাতির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শিকার করার মাধ্যমেই কেবল হাতির সংখ্যা খানিকটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।’ প্রেসিডেন্ট মাসিসি আরও বলেন, ‘জার্মানরা যেভাবে আমাদের বন্যপ্রাণীর সঙ্গে থাকতে বলে, তাদেরও সেভাবেই বসবাস করা উচিত।’

আরও পড়ুন: হিন্দু হয়েও রোজা রাখেন নীলাম, শিখবেন আরবি ভাষাও!

এ সময় তিনি হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ২০ হাজার জার্মানিতে পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বতসোয়ানা জার্মানিকেও এমন উপহার দিতে চায়। এখানে কোনো মশকরা করা হচ্ছে না ও উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি (জার্মানদের কাছ থেকে) না শুনতে চান না।’

হাতির পালের জন্য বতসোয়ানায় বিপুল পরিমাণ ফসলি ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়রা পদদলিত হয়ে আহত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। এর আগে, হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দেশটি প্রতিবেশী অনেক দেশকেই বিপুলসংখ্যক হাতি পাঠিয়েছে। অ্যাঙ্গোলাকে প্রায় ৮ হাজার হাতি দেওয়া হয়েছে। আরেক প্রতিবেশী দেশ মোজাম্বিকেও শতাধিক হাতি পাঠানো হয়েছে।

বতসোয়ানা ২০১৪ সালে বন্যপ্রাণী শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু স্থানীয়দের চাপে ২০১৯ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে দেশটিতে নির্দিষ্ট কোটায় শিকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

একে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর