শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ঢাকা

‘উত্তর গাজাকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘উত্তর গাজাকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল’
গাজায় ইসরায়েলি হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলিরা নির্বিচারে হামলা চালিয়ে উত্তর গাজাকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করেছে। শুক্রবার মেডিকেল দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার (এমএসএফ) এ মন্তব্য করেছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার এক টুইটে বলেছে, ‘যুদ্ধের দুই মাসেরও বেশি সময় পরে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার কারণে ওই অঞ্চলের উত্তরাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে মৃত এবং আহতরা প্রায় প্রতিদিনই আসতে থাকে। গাজায় কোনো নিরাপদ স্থান নেই।’


বিজ্ঞাপন


মেডিকেল দাতব্য সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ‘সম্পূর্ণ পূর্ণ বা ভর্তি’ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত, গুরুতর আহত ১ 

৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের পর অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সেখানকার বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি এখন বাস্তুচ্যুত। গাজার বেশিরভাগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স, রোগী, গুদাম এবং সরবরাহ কেন্দ্র-সহ ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর শত শত আক্রমণ রেকর্ড করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘ বারবার "আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা" করার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতি। কিন্তু, ইসরায়েলি সেনারা তাদের বর্বর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।


বিজ্ঞাপন


উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর প্রায় দুই মাস ধরে ইসরায়েল পাশবিকতা চালিয়ে গেলেও কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত তেল আবিবকে আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান পর্যন্ত জানায়নি।

গাজার সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। 

আরও পড়ুন: ‘গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী’

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫৩ হাজার ৩২০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

এছাড়া গাজায় ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং খাদ্য, পানি ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দী করে নিয়ে গাজা উপত্যকায় ফিরে যায়। সেদিন থেকেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান শুরু করে যা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে।

ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নৃশংসতার জবাবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এবং আমাদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসায় ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেবে। এগুলোই হামাসের এই অভিযানের কারণ।’

সূত্র : আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

এমইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর