মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে গাজা: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে গাজা: জাতিসংঘ
গাজার সব মানুষ একটি খাদ্য সংকটের সম্মুখীন। ছবি: রয়টার্স

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে গাজার অধিকাংশ মানুষ। জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করেছে। শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ খবর প্রকাশ করেছে।

‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি) দ্বারা জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গাজার সব মানুষ একটি খাদ্য সংকটের সম্মুখীন। সেখানে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ছয় শ’ মানুষ অনাহারের স্তরে রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


২৪ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি (প্রায় ২০ লাখ ৮০ হাজার মানুষ) উচ্চ মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: ৩ দিনে ২৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিওরিটি ফেস ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গাজা স্ট্রিপের ২৩ লাখ মানুষ এখনই খাদ্যাভাবে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সেখানে প্রবল খাদ্যসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

বস্তুত, জাতিসংঘ একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দিয়েছে তাদের রিপোর্টে। বলা হয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গাজায় পরিমাণমতো খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে না পারলে খাদ্যসংকট তৈরি হবে। ক্ষুধাসূচকের স্কেলে পাঁচটি ধাপ আছে। ৭ ফেব্রুয়ারি তা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাবে।


বিজ্ঞাপন


আইপিসি জানিয়েছে, এত পরিমাণ মানুষ এমন খাদ্যসংকটে এর আগে কখনও পড়েনি। তাদের বক্তব্য, অপুষ্টির সমস্যা প্রবলভাবে দেখা যাচ্ছে গাজায়। এই পরিস্থিতি এগোতে দিলে তবেই খাদ্যসংকট তৈরি হবে।

এদিকে গাজা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি আরও পিছিয়েছে। বৃহস্পতিবারও ভোট হয়নি। শুক্রবার ভোটাভুটি হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভোটাভুটির আগে যে সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সকলে এখনও ঐক্যমত্য হতে পারেননি। অ্যামেরিকা বারবার লেখায় বদল আনতে চাইছে। চেষ্টা হচ্ছে, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরি করে ভোটাভুটির দিকে এগোনোর।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের লাশগুলোও ইসরায়েলি বর্বরতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না  

বাকি দেশগুলোও নিজেদের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে। আপাতত যে খসড়া তৈরি হয়েছে, সেখানে গাজায় মানবিক সাহায্য পাঠানোর রাস্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বস্তুত, অ্যামেরিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসরের মধ্যে খসড়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি বাদানুবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ২০টিরও বেশি দেশ লোহিত সাগরের নিরাপত্তার জন্য তৈরি সাম্প্রতিক গোষ্ঠীতে যোগ দিতে রাজি হয়েছে। হুতিদের হাত থেকে পণ্যবাহী জাহাজ বাঁচাতে এই গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। লোহিত সাগরে নতুন করে তারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। 

বস্তুত, এই মুহূর্তে অধিকাংশ জাহাজ লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের রাস্তা এড়িয়ে আফ্রিকা ঘুরে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাতায়াত করছে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এই রাস্তা বদলে আবার সুয়েজের রাস্তায় বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে চাইছে অ্যামেরিকা-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ। সে জন্যই নতুন এই গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ৩ ডিসেম্বর তিনটি মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল হুতিরা। তারপরেই ওই রাস্তা এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে জাহাজগুলো।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স, এপি

এমইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর