মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

ফিলিস্তিনিদের হামলায় আরও ৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ফিলিস্তিনিদের হামলায় আরও ৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ৮
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সদস্যরা। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গাজায় ফিলিস্তিনিদের হামলায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও আট ইসরায়েলি সেনা ওই হামলায় আহত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ খবর দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে যে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নতুন সংঘর্ষে আরও দুই কর্মকর্তা ও একজন সৈন্য নিহত হয়েছে। ওই সময় ফিলিস্তিনিদের হামলায় আরও আট ইসরায়েলি সেনা আহত হয়।


বিজ্ঞাপন


৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি যুদ্ধে ৪৬৯ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজায় যুদ্ধবিরতিতে জাতিসংঘে নতুন উদ্যোগ, মত পাল্টেছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ইয়াকভ ইলিয়ান (২০), ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ওমরি শোয়ার্জ (২১) ও সার্জেন্ট লাভি গাসি (১৯) দক্ষিণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি আক্রমণে গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার উপকূলীয় অঞ্চলের অর্ধেক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। গাজার প্রায় ২০ লাখ লোক খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আছে। তারা এখন বাস্তুচ্যুত।


বিজ্ঞাপন


হামাস পরিচালিত গাজার সরকার বলছে, ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

গাজার সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ নারী ও শিশু। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক ইমার্জেন্সি ডিরেক্টর রিচার্ড ব্রেনান বলেছেন, তিনি এ তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্যই মনে করেন।

আরও পড়ুন: গাজায় ‘ভূগর্ভস্থ শহর’ খুঁজে পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের

যুদ্ধক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ একটি কঠিন বিষয় এবং গাজার শহরের চিকিৎসকরা বলছেন যে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ যাদের হাসপাতালে নেওয়া যায়নি বা যারা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে তাদের গণনা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর প্রায় দুই মাস ধরে ইসরায়েল পাশবিকতা চালিয়ে গেলেও কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত তেল আবিবকে আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান পর্যন্ত জানায়নি।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এছাড়া আরও ১৩০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি জিম্মি বন্দী রয়েছে। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দী করে নিয়ে গাজা উপত্যকায় ফিরে যায়। সেদিন থেকেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান শুরু করে যা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে।

ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নৃশংসতার জবাবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এবং আমাদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসায় ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেবে। এগুলোই হামাসের এই অভিযানের কারণ।’

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, ইয়েনি শাফাক, বিবিসি

এমইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর