শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইসরায়েলি হামলায় গাজার জাবালিয়া ক্যাম্পের প্রায় ১০০০ মানুষ হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসরায়েলি হামলায় গাজার জাবালিয়া ক্যাম্পের ১০০০ মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ
গাজার জাবালিয়া ক্যাম্পের বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন। ছবি: এপি, মিডল ইস্ট আই

ইসরায়েলি হামলায় গাজার জাবালিয়া ক্যাম্পের প্রায় ১০০০ মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ খবর দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে দু’টি ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার মানুষ নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার ও বুধবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের বিস্তার রোধে আঞ্চলিক সম্মেলনের ডাক তুরস্ক ও ইরানের

এছাড়া গাজার জাবালিয়া ক্যাম্পের আরও ৭৭৭জন আহত হয়েছেন এবং ১২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে যে বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন।

গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে আট হাজার ৭৮৬ জন। ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তিন হাজার ৬৪৮ জনই শিশু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে দু’হাজার ২৯০ জন নারী আছে।


বিজ্ঞাপন


সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে এক হাজার ১২০জন শিশুসহ মোট দু’হাজার ৩০ জন। তারা সবাই নিখোঁজ রয়েছেন।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার ১৩০ প্যারামেডিক এবং মেডিকেল ক্রু নিহত হয়েছেন। সেখানে ২৮টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে এবং ২৭০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বিমান হামলা হয়।

এদিকে নিরাপত্তা কাউন্সিলে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থাগুলো আবারও মানবিক অস্ত্র বিরতির জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

ইউনিসেফ বলেছে, প্রতি ঘণ্টায় গাজার অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। আর “সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মূল্য শিশুদের জীবনের বিনিময়ে পরিশোধ করতে হবে।”

জাতিসংঘের এ শিশু বিষয়ক সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘গাজার পাঁচ শতাংশ পানি সুপেয়। এ কারণে সেখানে শিশুদের মধ্যে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। এটা একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি।’

জেনেভায় জাতিসংঘের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, গাজা এখন শিশুদের কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজায় অভিযানে গিয়ে ইসরায়েলি ১৭ সেনা নিহত

জাতিসংঘের এ শিশু বিষয়ক সংস্থাটি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চায়। তারা গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানোর কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, গাজার শিশুরা শুধু ইসরায়েলি বিমান হামলায় নয়, চিকিৎসা সেবার অভাবের কারণেও মারা যাচ্ছে।

দাতব্য সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনের ফিলিস্তিনি শাখার কর্মকর্তা জেসন লি গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, সেখানে প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে শিশু মারা যায়।

জেরুসালেম থেকে কথা বলার সময় তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যে ২০ হাজারের মতো মানুষ আহত হয়েছে - তাদের প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন শিশু।

লি বলেন, জনাকীর্ণ পরিবেশ এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না থাকার কারণে সংক্রামক রোগ বাড়ছে। তিনি বলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গাজায় ট্রাকের মাধ্যমে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তা “সাগরে এক ফোটা পানির মতো।”

“সার্জনরা অ্যানেসথেটিক ছাড়াই অস্ত্রোপচার করছেন, হাসপাতালগুলোতে আলোর উৎস হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে মানুষ।”

সূত্র : মিডল ইস্ট আই, বিবিসি, আল-জাজিরা

এমইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর