বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সূর্যের কত কাছে যাবে ভারতের আদিত্য এল-১?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:২০ এএম

শেয়ার করুন:

সূর্যের কত কাছে যাবে ভারতের আদিত্য এল-১?
প্রতীকী ছবি- হিন্দুস্তান টাইমস

চাঁদে নভোযান পাঠানোর দুই সপ্তাহের মধ্যেই সূর্যের কক্ষপথে অভিযানে যাচ্ছে ভারতের নভোযান আদিত্য-এল ১। শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টারের লঞ্চিং প্যাডে থেকে সূর্যের কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা করবে সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই নভোযান।

সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব ১৪ কোটি ৯৬ লাখ কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে রওনা দেয়ার পর ১৫ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত যাবে আদিত্য-এল ১, শতকরা হিসেবে যা পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের মাত্র এক শতাংশ।


বিজ্ঞাপন


অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ভারতের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসরো জানিয়েছে, এই পথ পাড়ি দিতে আদিত্য-এল ১ সময় নেবে চার মাস।

আরও পড়ুন: চাঁদকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণার দাবি!

সংস্কৃত ভাষায় সূর্যের আরেক নাম আদিত্য। সূর্যের কক্ষপথের উদ্দেশে পাঠানো নভোযানটির নাম তাই সূর্যের নামেই রাখা হয়েছে। পৃথিবী থেকে রওনা হয়ে ১৫ লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর যেখানে গিয়ে থামবে আদিত্য, সেই এলাকাটিকেই সূর্যের লেগ্রেঞ্জ পয়েন্ট বলে উল্লেখ করেছে ইসরো।

ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সংজ্ঞানুযায়ী, লেগ্রেঞ্জ পয়েন্ট হলো মহাবিশ্বের এমন একটি এলাকা, যেখানে দুই বৃহৎ বস্তু, যেমন সূর্য ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় শক্তি পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। আদিত্য-এল ১ যদি তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, তাহলে পৃথিবী যে গতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে—সেই একই গতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সক্ষম হবে আদিত্যও।


বিজ্ঞাপন


উৎক্ষেপণের পর সূর্যের অভিমুখে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার এগিয়ে গিয়ে ছোট একটি কক্ষপথে পাক খেতে শুরু করবে আদিত্য-এল১। সেখান থেকে সৌরমণ্ডল সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করবে। এর যাত্রাপথ নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর রাখা হবে বিশ্বের পাঁচ প্রান্ত থেকে। ভারতের শ্রীহরিকোটা এবং আন্দামান ছাড়া ব্রুনাই, ফিজি এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসের মাটিতে বসে সেটি তদারকি করবেন।

আরও পড়ুন: জনি কিম: নেভির স্নাইপার, হার্ভার্ডের চিকিৎসক, গণিতবিদ ও নভোচারী

ইসরোর হয়ে ওই পাঁচটি দলে রয়েছেন বরুণ বিশ্বাস। তিনি জানান, উৎক্ষেপণের সময় থেকে রকেট তথা মহাকাশযান অভিপ্রেত কক্ষপথে যাচ্ছে, না কি সামান্য হলেও বিচ্যুতি হচ্ছে, সেদিকে সারাক্ষণ নজর রাখা হয়। তেমন কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে বিশেষ নির্দেশ পাঠিয়ে তাকে কক্ষপথে ফিরিয়ে আনা হবে।

বরুণ বলেন, ‘আদিত্য-এল১ থেকে সূর্যের সবচেয়ে বাইরের স্তরের আবহাওয়া, উত্তাপের উৎস, প্রকৃতি ও আচরণ এবং সৌরঝড় সম্পর্কিত বহু তথ্য পাওয়া যাবে। এই অভিযান সফল হলে মহাকাশ গবেষণার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে ভারত।’

সূত্র: জি নিউজ ও আনন্দবাজার

একে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর