সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি উল্লেখ করে তামাক ব্যবহার হ্রাস, তরুণদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন। 

দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সংশোধিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬’ এর দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন এবং ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীরা।

সভায় বক্তারা বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ও তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক বিদ্যমান গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। এ ছাড়া তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

বক্তারা আরও বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু জনস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তামাক চাষে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সভায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এ ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন নিকোটিনজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। 

বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বিপণন কৌশলের মাধ্যমে তরুণদের লক্ষ্য করে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশ্বের ৪০টি দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে জানিয়ে বক্তারা বাংলাদেশে ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশোধিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক আখতার-উজ-জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওউনার্স অ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোকাদ্দেম হোসেন, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপুসহ ঢাকা আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা।

এমআইকে/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর