সরকার এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বিত প্রচেষ্টাই দেশের সব মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চোখের চিকিৎসাসেবা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। রাজধানীর সিআইআরডিএপ মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লাভ ইয়োর আইজ বা নিজের চোখের যত্ন নিন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের চক্ষু স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ড. দুর্গা পি. পাওডিয়াল কনফারেন্স হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ এবং চোখের যত্নের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অন্ধত্বসহ দৃষ্টিজনিত অনেক বড় বড় সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: হৃদরোগে মৃত্যু হ্রাসে কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গঠনের আহ্বান
আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও অনুষ্ঠানে ২০২০ সালের নেশনওয়াইড ব্লাইন্ডনেস সার্ভের তথ্য তুলে ধরে জানান যে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন যে এই সমস্যা শুধু দৃষ্টির সঙ্গেই জড়িত নয়, বরং এটি শিশুদের পড়াশোনা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের কর্মক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তাই প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন তার বক্তব্যে বলেন যে চশমার মতো সাধারণ একটি মাধ্যমও মানুষের জীবন বদলে দিতে এবং জীবিকা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোঃ মহসীন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে চোখের চিকিৎসাকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদিরসহ দেশের প্রথিতযশা চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।
এজেড




