রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

হাম মোকাবিলায় মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম শুরু করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

হাম মোকাবিলায় মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম শুরু করছে সরকার
হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি একটি হাসপাতালের চিত্র

দেশে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকার আওতায় আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম শুরু করছে সরকার। ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন নামের এ কার্যক্রম চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এ সময়ে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো এবং ক্যাম্পেইন টিকা গ্রহণের উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। গত এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে।

একইসঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, রোগ নজরদারি বৃদ্ধি এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে হাম-রুবেলা ক্লিনিকাল কেইস ম্যানেজমেন্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের পরও মাঠ পর্যায়ের সাম্প্রতিক তথ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ পরিচালিত র‌্যাপিড কনভিনিয়েন্স মনিটরিং এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু শিশু এখনো হাম-রুবেলা টিকার আওতার বাইরে রয়েছে।

ham
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত। ছবি- ঢাকা মেইল

বিশেষ করে বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু হামের টিকা গ্রহণ করেনি। ফলে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য- হাম-রুবেলা টিকার জন্য উপযুক্ত কোনো শিশুই যেন বাদ না পড়ে। এবারের বিশেষ কার্যক্রমে শুধু আগের হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা বা অর্জনের হিসাবের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একই বয়সসীমার শিশুদের নিয়ে পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি ছিল। এর অর্থ, হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের বিদ্যমান তালিকা বা লক্ষ্যমাত্রার বাইরে কিছু শিশু থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই প্রকৃতপক্ষে কত শিশু হাম-রুবেলা টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা চিহ্নিত করতে বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, এ ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জনের তথ্য, হাম-রুবেলা টিকাদান রেজিস্টার, স্থানীয় মাইক্রোপ্ল্যান, আগের ক্যাম্পেইনের তথ্য এবং মাঠ পর্যায়ের মনিটরিংয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা গ্রহণের অবস্থা যাচাই করবেন। 

যেসব শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের তালিকাভুক্ত করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রচলিত তালিকা বা পূর্ববর্তী ক্যাম্পেইনের তথ্যের বাইরে থাকা শিশুদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টদের মতে, হাম-রুবেলার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানো এবং বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা জরুরি। মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকা গ্রহণে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

এসএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর