রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা না পাওয়া এবং পরবর্তীতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা দলবদ্ধ হয়ে এ হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছেন দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, এডমিশন ডিউটিতে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের চতুর্থ ইউনিটের অধীনে চিকিৎসাধীন শেষ ধাপের ফুসফুসের ক্যান্সারে (সিএ লাং) আক্রান্ত এক রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের কাছে যান।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল এবং ইতোমধ্যেই তাকে ওয়ার্ডের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে আইসিইউ রেফার করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা ফাঁকা না থাকায় অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে রোগীকে দ্রুত স্থানান্তরের পরামর্শ দেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে রোগী মারা গেলে স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে করতে চিকিৎসকের কক্ষে এসে তাদের ওপর হামলে পড়ে। কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিন শাওন কক্ষের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করেন।
এ সময় হামলাকারীরা দরজায় সজোরে আঘাত করতে থাকে এবং তাকে না পেয়ে বাইরে থাকা অনারারি মেডিকেল অফিসার (এইচএমও) ডা. মো. মোশাররফ হোসেন ও ওয়ার্ড বয় জাহাঙ্গীরকে টেনে-হিঁচড়ে মেঝেতে ফেলে মারধর করে। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক নুজহাত এ সময় তাদের হামলা থেকে রেহাই পান।
পরবর্তীতে অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পিছু হটে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল আমিন শাওন বলেন, ‘রোগীটি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় গত ১২ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৩ তারিখে উনাকে আইসিইউ রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানে শয্যা ফাঁকা না থাকায় স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল বা সোহরাওয়ার্দীতে নেওয়ার জন্য কাউন্সেলিং করি। তারা আমাকে ব্যক্তিগত কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার করতে বলেন। অথচ একজন সরকারি কর্মী হিসেবে যা করা আমার পক্ষে অনৈতিক। আমরা ওই রোগীর জন্য ওয়ার্ডের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি।’
তিনি আরও জানান, ‘রোগী মারা যাওয়ার পরপরই বাইরে থেকে একদল লোক চিৎকার করে দৌড়ে আমাদের কক্ষের দিকে আসে। প্রাণ বাঁচাতে আমি দ্রুত দরজার ভেতরে ঢুকে ধাক্কা দিয়ে আটকে রাখি। বাইরে তারা আমার ট্রেইনি ডক্টর ও ওয়ার্ড বয়কে ফ্লোরে ফেলে পিটাতে থাকে। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। আমরা তিনজন ভেতরে কোনোমতে দরজায় ধাক্কা দিয়ে নিজেদের রক্ষা করি। পরে সহকর্মীদের ম্যাসেজ দিলে ১৫-২০ মিনিট পর অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন। তর্কের খাতিরে যদি চিকিৎসায় কোনো গাফিলতির অভিযোগও থাকে, তার বিচার তো এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বা ডাক্তারের ওপর হামলা চালিয়ে হতে পারে না।’
ঘটনার সময় উপস্থিত অন্য এক চিকিৎসক বলেন, ‘রোগীটি টার্মিনাল ইল (অসুখের শেষ পর্যায়) ছিলেন। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না, মেডিসিন ওয়ার্ডে যতটুকু সম্ভব সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য এই হামলা ও অবহেলার মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে।’
এসএইচ/এআরএম




