শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘বাংলাদেশ থেকে ক্যানসারের ওষুধ কিনতে আগ্রহী কয়েকটা দেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশি ক্যানসারের ওষুধ কিনতে আগ্রহী কয়েকটা দেশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

বাংলাদেশে উৎপাদিত ক্যানসারের ওষুধ কিনতে তিউনিশিয়াসহ কয়েকটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।  

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্যারিসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সম্মেলনে এসব দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক ও সরকারের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দেশীয় ক্যানসারের ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ আমদানির ইচ্ছার কথাও তারা জানিয়েছেন।’

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চিকিৎসাক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওষুধ রফতানির আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারকরা খুব ভালো নাম অর্জন করেছেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্যারিসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি সম্মেলনে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের ওষুধ প্রস্তুতকারকসহ সরকারের সঙ্গে বৈঠক করার আগ্রহ দেখিয়েছে তিউনিশিয়াসহ দুই-তিনটি দেশ।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব ওষুধ উৎপাদন করছি, বিশেষ করে ক্যানসারের ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ নিতে চায় দেশগুলো। এরই মধ্যে আমরা ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা ও উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ ৫৩ বছর পার হওয়ার পর আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো একজন গুণী উদ্যোক্তার নেতৃত্ব পেয়েছি। পেছনে ফিরে না তাকিয়ে ভালো উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে স্বাস্থ্যখাতের বাজেট ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন তিনি।’

2
‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদাসহ অন্যরা

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি। সেই তুলনায় সেবা প্রদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহায়ক কর্মীদের সংখ্যা খুবই কম। এরপরও তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা দেশের বিভিন্ন সংকটের সময়ে ভালো উদ্যোক্তাসুলভ গুণ দেখিয়েছেন।’

করোনাকালীন সাফল্যের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতসহ অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর মৃত্যুর হারের তুলনায় করোনাকালীন সময়ে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার কম ছিল। এটি আমাদের চিকিৎসকদেরই সাফল্য ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামের তীব্র সমস্যাও চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে আমরা লড়াই করেছি। সেই লড়াইয়ে জয়ীও হয়েছি। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেও লড়াই চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা দুই মাস আগেই এ প্রচেষ্টা শুরু করেছিলাম। গত কয়েক বছরের তুলনায় ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় আমাদের অবস্থান অন্যান্য আমলের চেয়ে ভালো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পেডোগ্রাফ উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জাফর সিদ্দিকী। এটি ফুট ক্যানসার তথা পায়ের ক্যানসার প্রতিরোধী, যা এক ধরনের বেল্টের মতো। তার এই নীরব উদ্যোক্তাসুলভ উদ্যোগে তিনি এটি পাকিস্তানে প্রচুর পরিমাণে রফতানি করছেন, যা ডায়াবেটিসের কারণে পা কেটে ফেলার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তিনি এই ছোট পেডোগ্রাফটি উদ্ভাবন করেছেন, যার ওপর ভিত্তি করে জুতা প্রস্তুতকারকরা জুতা তৈরি করেন। এ জুতা ব্যবহার করতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা। এর ফলে তারা কখনো পায়ের ক্যানসারে ভুগবেন না। এটি আমাদের একটি বড় অর্জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইসিডিডিআরবি-এর একজন চিকিৎসক মাত্র ৩৫০ টাকার একটি ছোট জিনিস উদ্ভাবন করেছেন। এটি একটি ছোট পানির পাত্র, যা পানিতে বুদবুদ তৈরি করে। এই যন্ত্রটি হামের সময়ে আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে। এটিই আমাদের চিকিৎসকদের অর্জন। একইসঙ্গে মানসম্মত উদ্যোক্তাসুলভ কাজের উদাহরণ।’

অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর