বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) এফসিপিএসে উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালার প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। নীতিমালাটি বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (৩ জুন) ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটিসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যে নতুন নীতিমালা জারি করেছে, এতে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে পদায়নপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে দুই বছর নিজ নিজ উপজেলায় কর্মরত বা প্রশিক্ষণে থাকার বাধ্যবাধকতা এবং সরকারি ভাতাভুক্ত প্রশিক্ষণার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতি সেশনে সর্বোচ্চ এক হাজার জনকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
চিকিৎসকদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে সংকুচিত করবে এবং তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। তাই চলতি বছরের ১৯ মে জারি করা সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।
ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের নবম গ্রেডের সমমানের বেতন প্রদান এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর এবং বিএমডিসির বাইরে অবৈধভাবে চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকরা আরও দাবি করেন, বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সব ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায় নির্ধারণ করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব দাবি শুধু চিকিৎসকদের পেশাগত স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্যও জরুরি।
তারা সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভিন্ন দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিটি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।
এমএইচ/এএস




