আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলাকালীন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ জুন) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই তথ্য জানান এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, “আমার ছবি ব্যবহার করে গতকাল থেকে ফেক বক্তব্য সম্বলিত একটা ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, আমি নাকি বলেছি আদ্-দ্বীন হসপিটালে আমরা ‘কোন ত্রুটি খুঁজে পাইনি’। এই কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং দুরভিসন্ধিমূলক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
বিজ্ঞাপন
প্রকৃত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “বাস্তবতা হলো—আমরা ডিজি হেলথ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলে উক্ত হসপিটালে ছয়টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সামনে যা সত্যি, তা আমরা কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই বারবার বলে যাচ্ছি। আমাদের চাওয়া এখন একটাই—মৃত্যুর সঠিক কারণটা উদঘাটন করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর একটিও না ঘটে।”
অপপ্রচার চালানো ফটোকার্ডটির অসঙ্গতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কার্ডটিতে কোনো অথেনটিক রেফারেন্স বা লিংক নেই যে তিনি ঠিক কোথায় এই কথা বলেছেন। এমনকি সেখানে তার পদবিও ভুল লেখা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, ঘটনা ঘটার প্রথম দিন গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময়কার একটি ছবি ব্যবহার করে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘কুলসুম খাতুন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ডা. জাহিদ রায়হান নিজেই ওই পোস্টের কমেন্টে গিয়ে সত্যতা তুলে ধরার পরও পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি যিনি এটা করেছেন তিনি কোনো একটা উদ্দেশ্য নিয়েই করেছেন। কেন উনি এটা করেছেন, আশা করি সদাশয় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা খতিয়ে দেখবেন। আমি আমার দীর্ঘ কর্মময় জীবন নিয়ে নির্ভার, সন্তুষ্ট এবং নিরুদ্বিগ্ন থাকতে চাই।”
বিজ্ঞাপন
এসএইচ




