# ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি
# ছুটিতে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা চালু রাখছে সরকারি হাসপাতালগুলো
বিজ্ঞাপন
# সড়ক দুর্ঘটনা ও হামের বাড়তি চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের বিশেষ রোস্টার
# হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ছুটি বাতিল
# বহির্বিভাগ একটানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ না রাখার নির্দেশনা
বিজ্ঞাপন
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। তবে উৎসবমুখর এই যাত্রার মধ্যেই বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা। ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলো নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসেবা চালু রেখে চিকিৎসক-নার্সদের বিশেষ রোস্টারে সেবা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের জন্য অন্যতম ঠিকানা রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়া আছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। প্রত্যেকটি হাসপাতাল ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। চালু থাকবে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর।
এছাড়াও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান– বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চালু থাকবে। এসব হাসপাতালে শিফট অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, ঈদের ছুটিতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
ঈদের ছুটিতে সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ থাকে, ছুটিতে হাসপাতালে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। থাকে না পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ান। জরুরি ও ইনডোর খোলা থাকলেও চিকিৎসক আর নার্সের উপস্থিতি থাকে কম এবং কখনো কখনো পাওয়া যায় না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলোর ফার্মেসিতে থাকে ওষুধের ঘাটতি। এতে নানা ধরনের জটিলতায় পড়েন রোগীরা।
সারাদেশের হাসপাতালগুলোকে ঈদের ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খোলা রাখতে ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি বিভাগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান, এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। সেইসঙ্গে কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে-পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে।
৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকবে না বহির্বিভাগ
বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ না রাখার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবেন। অধিদফতর জানায়, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার ঢাকা মেইলকে জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিএমইউর ইনডোর ও জরুরি বিভাগ সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল ফিতরেও খোলা থাকবে। এছাড়া সরকারি ছুটির মধ্যেও দুদিন বহির্বিভাগ খোলা থাকবে।
তিনি আরও জানান, রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আগামী বুধবার (২৭ মে) ও শনিবার (৩০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। ওই দুই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকবে। বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে শিশুদের। হামের আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্ন করতে হামের রোগীদের চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, ‘হামের রোগীদের চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসক ও নার্সের ঈদের ছুটি হবে না। তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে হবে। আমরা অলরেডি সার্কুলার দিয়েছি।’
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থাকবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সকাল-বিকেল দুই বেলা রাউন্ড দেবেন। ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যালসামগ্রী মজুতসহ তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে স্টোরকিপার অথবা ছুটি চলাকালে দায়িত্ব পাওয়া স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন।
জানতে চাইলে নিটোর পরিচালক ডা. আবুল কেনান ঢাকা মেইলকে বলেন, ঈদের ছুটিতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীরা আসবে এবং জটিল রোগীদের অস্ত্রোপচারে কোনো ব্যাঘাত হবে না। এছাড়া রোস্টার তৈরি করা হয়েছে এবং সেবা কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আবুল কেনান আরও বলেন, প্রতিদিন ২৪ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করবেন। সেইসঙ্গে নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ অন্যান্য জনবল থাকবে। তবে এজন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কোনো ধরনের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবুও আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।
হামের শিশু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে রোস্টার তৈরি করা হয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসকরাও থাকবেন। হাসপাতালের পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত চিকিৎসকদের কেউ কেউ ছুটিতে থাকলেও তাদেরকে হাসপাতালে যেতে হয়। সময় অনুযায়ী ডিউটি দেওয়া থাকবে এবং কোন চিকিৎসক, কোথায় দায়িত্ব পালন কবেন সেটা নির্ধারিত থাকবে। শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি হবে না। যদিও হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে চাপ যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘হাম ছোঁয়াচে রোগ। শিশুদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। জনসমাগমে গেলে বড়দের কোনো সমস্যা হবে না, তবে ছোটদের সমস্যা হয়। যেসব শিশুরা যেখানে আছে, সেখানে থাকাই ভালো। ধরেন, দুই ফুটের মধ্যে একজন শিশুর হাম আছে, আশপাশে থাকা শিশুদেরও হাম হতে পারে। যদিও শিশুদের ভ্যাকসিনেশন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। আর শিশুদের সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসতে হবে এবং দেরি করা যাবে না। হাসপাতাল সবসময় খোলা থাকবে।’
হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিয়ে শ্যামলীর ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ঈদে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতাল খোলা থাকবে এবং চিকিৎসক থাকবে। যাতে মানুষের কোনো ধরনের সমস্যা না হয় এবং কোনো রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। নিরবচ্ছিন্ন চালু থাকবে।
এসএইচ/এমআর




