বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত গরম শুধু অস্বস্তিই সৃষ্টি করে না, বরং শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ, যুবক ও শ্রমজীবী মানুষ— সবাইকে এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়। সামান্য অসচেতনতা থেকে ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রোক, মাথা ঘোরা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গরমে সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়ম মেনে চলা।
শিশুরা গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তারা সাধারণত খেলাধুলা ও দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত থাকে, ফলে দ্রুত শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। শিশুদের বারবার বিশুদ্ধ পানি ও ঘরে তৈরি শরবত খাওয়ানো উচিত। বাইরে খেলতে গেলে হালকা রঙের সুতি কাপড় পরানো ভালো। দুপুরের তীব্র রোদে শিশুদের বাইরে না নেওয়াই উত্তম। এ ছাড়া খাবারে ফলমূল, ডাবের পানি ও তরলজাতীয় খাবার বাড়াতে হবে।
বিজ্ঞাপন
বৃদ্ধ মানুষের শরীর গরম সহজে সহ্য করতে পারে না। অনেকের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা থাকে, যা অতিরিক্ত গরমে আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই বৃদ্ধদের ঠাণ্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে থাকতে হবে। নিয়মিত পানি পান করা জরুরি, যদিও অনেক সময় বয়সের কারণে তৃষ্ণা কম অনুভূত হয়। প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। পরিবারের সদস্যদেরও তাদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে।
যুবক ও কর্মজীবী মানুষদের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাজ করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত ঘাম ও ক্লান্তি শরীরে দুর্বলতা তৈরি করে। গরমে কাজ করার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। চা, কফি বা অতিরিক্ত কোমল পানীয়ের বদলে লেবুর শরবত, স্যালাইন বা ডাবের পানি বেশি উপকারী। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া দরকার।
শ্রমজীবী মানুষ যেমন রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক বা কৃষকরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে থাকেন। তাদের কাজের অধিকাংশই খোলা আকাশের নিচে করতে হয়। তাই তাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও বিশ্রামের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে কাজ করলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব বা জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গরমে সুস্থ থাকার জন্য কিছু সাধারণ নিয়ম সবার মেনে চলা উচিত। যেমন: পরিষ্কার পানি পান করা, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, বেশি বেশি ফলমূল খাওয়া এবং অপ্রয়োজনে রোদে না বের হওয়া। ঘর ঠাণ্ডা রাখতে জানালা খোলা রাখা এবং হালকা পোশাক পরাও উপকারী।
অতএব, গরমকে অবহেলা না করে সচেতনভাবে চললে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। নিজের পাশাপাশি পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতাই আমাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে পারে।
লেখক: উপপরিচালক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, শ্যামলী, ঢাকা
এফএ




