স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘আমাদের সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার মূল ভিত্তিই হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা।’
আমরা এমন একটি হেলথ সিস্টেম বানাতে চাই, যা সম্পূর্ণ রি-অর্গানাইজড এবং আধুনিক। এখানে পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান কাঠামোটি আমাদের জন্য বোঝা নয়, বরং বড় সম্পদ। তবে সময়ের প্রয়োজনে আমাদের এই ব্যবস্থায় বিবর্তন আনতেই হবে।’
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ বিষয়ক এক নীতি সংংলাপে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই নীতি সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডেনের (Sverige)।
প্যানেল আলোচনায় আরো অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমাদ, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান, সুইডিশ দূতাবাসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম, জনসংখ্যা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডা. উবায়দুর রব, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা ডা. ইয়াসমিন এইচ আহমেদ, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও সিনিয়র পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. আবু জামিল ফয়সেল।
মাঠপর্যায়ের সেবায় কাজের ডুপ্লিকেশন বা দ্বৈততা কমাতে নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। সরকার আরও ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
বর্তমান ও নতুন মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তাদের সবার জন্য একই ধরনের জব ডেসক্রিপশন এবং ‘এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ নিশ্চিত করা হবে যাতে সেবার মান একরূপ হয়।
প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, এখন থেকে শুধুমাত্র জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘একই বাড়িতে তিনবার আলাদা আলাদা কর্মী যাওয়ার ফলে যেমন ডুপ্লিকেশন হয়, তেমনি দূরের অনেক বাড়ি বাদ পড়ে যায়। সমন্বিত কাঠামো হলে এই কাভারেজ গ্যাপ আর থাকবে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন। যথাযথ সচেতনতা বাড়াতে পারলে এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। ফলে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং সরকার সেই সম্পদ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবে।
স্বাস্থ্য খাতের ফিনান্সিং নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের অদক্ষতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন করতে না পারা।
সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বাজেটের আকার উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে রিয়েল টাইম ডাটা সংগ্রহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এসএইচ/এআরএম




