স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে আইএমসিআই (অসুস্থ্য শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা) ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন ও একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে এ উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) সহযোগিতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) মাধ্যমে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডাইরেক্টর (এমআইএস) ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও নিউমোনিয়া, সেপসিস এবং ডায়রিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ এখনো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে চালু হওয়া আইএমসিআই ডিজিটাল অ্যাপ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পরামর্শ এবং রেফারাল প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে এবং মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদানে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় আইএমসিআই অ্যাপকে আরও উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন, একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড এবং বহুভাষিক ভয়েস-সহায়ক টুল তৈরি করা হবে, যা রোগ পর্যবেক্ষণ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ইতোমধ্যে অ্যাপটি শিশুর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পরামর্শ প্রদানে বেশ সফলতা দেখিয়েছে। অ্যাপটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে চিকিৎসা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সংক্ষিপ্ত করবে।’
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ‘ভয়েস অ্যাসিস্টেন্ট টুলের সহায়তায় দ্রুততার সাথে অ্যাপটির মাধ্যমে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবে।’
অনুষ্ঠানে আইএমসিআই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রেক্ষাপট, প্রকল্পের লক্ষ্য, প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়াও উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাপের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড স্পন্সরশিপের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
উল্লেখ্য, ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস (আইএমসিআই) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফ কর্তৃক প্রণীত একটি সমন্বিত পদ্ধতি, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থতা, মৃত্যুহার এবং অক্ষমতা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় বাংলাদেশে ডিজিটাল আইএমসিআই অ্যাপ চালুর মাধ্যমে শিশু স্বাস্থ্যসেবা আরও দক্ষ ও তথ্যভিত্তিক হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগটি স্বাস্থ্য সেবা ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএইচ/আরআর




