বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ ও সরকারি নিবন্ধন চান পুষ্টিবিদরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

শেয়ার করুন:

জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ ও সরকারি নিবন্ধন চান পুষ্টিবিদরা
জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ ও সরকারি নিবন্ধন চান পুষ্টিবিদরা

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অপুষ্টি, স্থূলতা এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিবিদদের সরকারি নিবন্ধন, লাইসেন্সিং এবং পেশাগত স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পুষ্টিবিদদের নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্যের আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ন্যাশনাল নিউট্রিশন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।


বিজ্ঞাপন


‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে পুষ্টিবিদদের সক্রিয় কার্যক্রম, নিবন্ধন ও পেশাগত স্বীকৃতি’ শীর্ষক এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট সুমাইয়া শাহনাজ এবং সঞ্চালনা করেন ডায়েটেশিয়ান কনসালটেন্ট আমাতুল্লাহ শারমীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুষ্টি পরিষদের (IPHN) পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুষ্টি সমস্যা সমাধানে পুষ্টিবিদদের ভূমিকা অপরিসীম। সরকারি স্বাস্থ্য কাঠামোতে এখনো পুষ্টিবিদদের ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংকট নিরসনে এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে আমরা পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের (BBF) চেয়ারম্যান ড. এস. কে. রয় বলেন, পুষ্টিবিদদের জন্য সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। তিনি পেশাজীবীদের গবেষণা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

পথিকৃত ইনস্টিটিউট অফ হেলথ সায়েন্সের ডিরেক্টর অধ্যাপক লিয়াকত আলী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুষ্টি বিজ্ঞানের অভিন্ন কারিকুলাম তৈরির ওপর জোর দিয়ে বলেন, পুষ্টিবিদদের মানোন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একই পাঠ্যক্রম এবং আইনগত স্বীকৃতি প্রয়োজন।


বিজ্ঞাপন


উদ্বোধনী বক্তব্যে সভাপতি সুমাইয়া শাহনাজ উল্লেখ করেন, দেশে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি এবং জীবনযাত্রাজনিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে পুষ্টিবিদদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থান কাঠামো, মানদণ্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, যা পেশাগত দক্ষতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্যামল কুমার (IPHN), প্রফেসর ফারজানা সালেহ (BUHS), তানজিনা রহমান (INFS), ডায়েটেশিয়ান তাসনিম হাসিন, সৈয়দা লিয়াকত, রেবেকা সুলতানা, ইসরাত জাহান, শামসুন নাহার মহুয়া, আয়েশা সিদ্দীকা ও আখতারুন নাহার আলো। 

অংশগ্রহণকারীরা নিজস্ব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেশ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। তা হলো- সরকারি ও বেসরকারি সকল স্বাস্থ্য কাঠামোতে ‘পুষ্টিবিদ’ (Nutritionist) পদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও পদায়ন।

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং একটি সুসংগত প্রশিক্ষণ কাঠামো নিশ্চিত করা।

পুষ্টিবিদদের জন্য শক্তিশালী কর্মসংস্থান কাঠামো ও পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি।

পুষ্টিবিদদের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে সরকারি ‘আইন’ (Act) হিসেবে কার্যকর করা।

বিইউ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর