শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

‘হামের প্রাদুর্ভাব বিস্তারের হটস্পট’

মুন্সিগঞ্জে নতুন করে হাম আক্রান্ত ২৮, মোট শনাক্ত ১০৩, হাসপাতালে ৫ শিশু

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জে নতুন করে হাম আক্রান্ত ২৮, মোট শনাক্ত ১০৩, হাসপাতালে ৫ শিশু
সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মুন্সিগঞ্জের তিনটি উপজেলায় সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের টিকাদানের ছবিটি গত বৃহস্পতিবার তোলা- ঢাকা মেইল।

হামের প্রাদুর্ভাব বিস্তারে হটস্পটে পরিণত হওয়া, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মুন্সিগঞ্জ জেলার সার্বিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে ধাবিত হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে।

দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা হাম আক্রান্তে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় জেলার তিনটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করলেও জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৭ জনে। এরপর গত রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে ধাবিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মুন্সিগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, জেলায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত ১০৩ জন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫ শিশু। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ২৮ শিশু।

fbd11058-bf31-4549-a5a4-df4066e5f077

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডিজিস্ট কন্ট্রোল ডা. দেবরাজ মালাকার জানিয়েছেন, ১০৩ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৮ জন। তবে গত ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৯৫০টি বায়াল টিকা এসেছে। এ টিকার মাধ্যমে ১ লাখ ৯ হাজার ৫০০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।


বিজ্ঞাপন


মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে ১টি আলাদা কক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সব শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

একই সঙ্গে জ্বর, র‍্যাশ বা হাম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

খতনার সময় শিশুর অঙ্গ কর্তন, কথিত চিকিৎসক গ্রেফতার

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় একটি বিশেষ কক্ষ ও ৫টি বিশেষ বেড প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়াও হাম আক্রান্ত রোগীর সেবা ও চিকিৎসায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে সব প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে।

২৫০ সালে বিশিষ্ট মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, হাসপাতালে ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। হামে আক্রান্ত রোগীর জন্য বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত আছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত নতুন আরও ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় মোট ১০৩ জন হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

8a98f837-b9d4-4b3a-89dd-56b84e4337c8

তিনি বলেন, অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে আক্রান্ত শিশু সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে হামে আক্রান্ত রোগীকে সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিদিন হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে।

এদিকে পরিস্থিতি জেলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, হামের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, মূলত জটিলতাগুলোর চিকিৎসা করা হয়। আক্রান্ত হলে দ্রুত শিশুদের চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর