সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জ্বর হলেই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

NDF dhakamail
জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের আয়োজনে (এনডিএফ) হাম রোগ বিষয়ক সেমিনার। ছবি: ঢাকা মেইল

শিশুদের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। জ্বর হলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন শিশুর অভিভাবকেরা। তবে জ্বর হলে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের আয়োজনে (এনডিএফ) হাম রোগ বিষয়ক সেমিনারে এ পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


বিজ্ঞাপন


এনডিএফের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

সেমিনারে প্যানালিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ মুর্তজা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো. খয়বর আলী, অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাকিবুল হক খান ও ডা. আতিয়ার রহমান।

অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আবু তালহা। তিনি তার মূল প্রবন্ধে হাম রোগের সংক্রমণ প্রবণতা, এর ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্য, জটিলতা এবং শিশুদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়সম্পন্ন টিকাদানই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় এবং এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকল্প নেই। এসময় তিনি হাম রোগ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। ছোট ছোট বাচ্চারা, বিশেষ বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত বেশি হয়। এটি কেবল সাধারণ র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি নয়; এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়ার ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনকেফেলাইটিস) এর মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তারা বলেন, হাম ভাইরাসের প্রবেশপথ হলো শ্বাসনালি অথবা কনজাংটিভা (চোখের পর্দা), যা প্রধানত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে (কাশি বা হাঁচি) ছড়ায়। বড় আকারের ড্রপলেট বা বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র অ্যারোসল কণার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি র‍্যাশ (চামড়ায় লালচে দানা) ওঠার ৩ দিন আগে থেকে শুরু করে ৪-৬ দিন পর পর্যন্ত সংক্রামক থাকেন। হামের সংস্পর্শে আসা প্রতি ১০০ জন সংবেদনশীল ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ৯০ জনই এতে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত ব্যক্তি কক্ষ ত্যাগ করার পরও ভাইরাসটি প্রায় ২ ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। বিমান, চিকিৎসকের চেম্বার বা হাসপাতালেও অ্যারোসলের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পরে।

সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির মূল কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, যার ফলে লক্ষ লক্ষ শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হামরোগ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত টিকাদানের ঘাটতি এবং ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে ভীতি বা উদাসীনতার ফল। এছাড়াও কোভিড-১৯ জনিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া এবং মহামারি চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড মোকাবিলায় নিয়োজিত থাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছিল, অনেক শিশু তাদের প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ হামের টিকা পায়নি, ফলে তাদের শরীরে হামের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে, বিশেষ করে দুর্গম বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, হামের টিকার কভারেজ কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সঠিক সময়ে টিকা দিচ্ছেন না বা টিকার গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়াও টিকা সম্পর্কে ভিত্তিহীন প্রপাগান্ডা, বর্তমান এই অবস্থার জন্য দায়ী।

সেমিনারে এনডিএফের দফতর সম্পাদক ডা. একেএম জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মেডিকেল চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর