চুরি হয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৪ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে এই কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। বিকেল ৫টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ডিউটিতে যোগ দেননি।
বিজ্ঞাপন
তারা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক দিনে ডিউটি চলাকালীন বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের লিটম্যান স্টেথোস্কোপ, মোবাইল-ফোনসহ অতি প্রয়োজনীয় ও দামি জিনিসপত্র চুরি হয়েছে।
তারা বলছেন, গত এক সপ্তাহে সার্জারি, মেডিসিন ও গাইনি ডিপার্টমেন্টে প্রায় ১০টি বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হলে আমাদের অত্যন্ত হতাশ ও হতভম্ব হতে হয়। সহকারী পরিচালক ডা. মফিজুর রহমান আমাদের ওপরই চুরির অপবাদ আরোপ করেন এবং নিজ খরচে সিসি ক্যামেরা লাগানোর মত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসহযোগিতামূলক বক্তব্য দেন।
বিজ্ঞাপন
তাদের অভিযোগ, এর আগে জানুয়ারি মাসে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর ভিত্তিহীনভাবে ওষুধ চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাব এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে এমন অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমাদের পেশাগত মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
এ অবস্থায় চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
তাদের দাবিগুলো হলো:
সহকারী পরিচালককে তার ভিত্তিহীন মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা সচল করতে হবে এবং আনসার কর্মকর্তাদের সহযোগিতা সাপেক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনকে লিখিতভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং শর্তহীনভাবে দাবি পূরণ করতে হবে। ডিউটিতে ফেরার পর কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসককে হয়রানি বা হেনস্থাস্বরূপ কিছু করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএমএ রুস্তম বলেন, ‘আমি অফিসে আসার পর জানতে পারি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। তারা আমাকে প্রথমে জানায়নি বিষয়টি। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আনসার সদস্য সীমিত, সিসিটিভি ক্যামেরাও সর্বত্র স্থাপনের সুযোগ নেই। তারপরেও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। আমাদের ইন্টার্নরা আজকেই ডিউটিতে জয়েন করবেন।’
তবে ইন্টার্নরা বলছেন, তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে অগ্রগতি এবং চুরির অপবাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ক্ষমা না চাইলে কর্মবিরতি বহাল থাকবে।
এসএইচ/এমআই
