সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হিন্দি সিনেমায়ও যদি হলমুখী না হয় দর্শক, তখন কী হবে?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:২১ এএম

শেয়ার করুন:

হিন্দি সিনেমায়ও যদি হলমুখী না হয় দর্শক, তখন কী হবে?
প্রযোজক বাঁচলে, চলচ্চিত্র বাঁচবে—একটা সময় এই স্লোগানটি মনেপ্রাণে ধারণ করতেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন সেই স্লোগান পাল্টে হয়েছে—সিনেমা হল বাঁচলে, চলচ্চিত্র বাঁচবে।

কঠিন সময় পার করছে দেশের সিনেমা হলগুলো। পর্যাপ্ত মানসম্মত সিনেমার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক সিনেমা হল। বাকি যে সিনেমা হলগুলো আছে, সেগুলো পুনর্জন্ম চায় ফিনিক্স পাখির মতো। তাই হিন্দি সিনেমাকে ত্রাতার ভূমিকায় দেখছেন হল মালিকেরা। তাদের বিশ্বাস, একমাত্র হিন্দি সিনেমাই পারে প্রেক্ষাগৃহগুলোর প্রাণ ফেরাতে।

জানা গেছে, প্রদর্শক সমিতির পক্ষ থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বছরে ১০টি হিন্দি সিনেমা আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি আমলে নিয়েছে।

Hindi

তবে যদি দেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি সিনেমা দর্শক গ্রহণ না করেন, তখন কী হবে— উত্তরে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা ও সিনেমা হলমালিক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা নানা উপায়ে চেষ্টা করছি সিনেমা হল বাঁচানোর। দেশে সিনেমার অভাব। সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সামনে হয়ত আরও বন্ধ হয়ে যাবে। সেকারণে শেষ চেষ্টা হিসেবে হিন্দি সিনেমা আমদানির কথা বলছি। এই চেষ্টাও যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাবে।’

প্রদর্শক সমিতির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাধ্য হয়ে হিন্দি সিনেমা আমদানির আবেদন জানিয়েছি। আমরা সবসময় দেশি ছবির ওপর ভরসা করতে চাই। পরজীবী হয়ে তো কেউ বাঁচতে চায় না। যদি প্রযোজক সৃষ্টি হতো, নতুন নতুন সিনেমা নির্মিত হতো; তাহলে হিন্দি সিনেমা আমদানির প্রশ্ন উঠত না।’

মিয়া আলাউদ্দিন জানান, দেশের সিনেমা হলগুলো হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের উপযুক্ত নয়। তবে যদি সরকার বলিউড ছবি আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে অনেক মালিকপক্ষ তাদের সিনেমা হল সংস্কার করবে।

Hindi

এফডিসিভিত্তিক ছবির জন্য কেনো নতুন প্রযোজক তৈরি হচ্ছে না— জানতে চাইলে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নেতা খোরশেদ আলম খসরু দায় চাপান সিনেমা হলের ওপর। তিনি বলেন, ‘একটি ইন্ডাস্ট্রিতে তখনই প্রযোজক তৈরি হবে যখন সিনেমা হল থাকবে। দেশে তো সিনেমা হল নেই। একজন প্রযোজক সিনেমা নির্মাণ করে ৫০ বা ৬০টি সিনেমাহলে সেটি মুক্তি দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন না। আর টাকা তুলতে না পারলে লগ্নি করবেন না। এটাই তো স্বভাবিক।”

হিন্দি ছবি আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিনেমা হলগুলোর কথা ভেবেই একমত হয়েছে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি। এতে যদি সিনেমা হলের অবস্থা ফেরে তাহলে সামনে হয়ত আরও নতুন প্রযোজক সৃষ্টি হবে।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ বলেন, ‘সিনেমা হল বাঁচানোর জন্য কিছু শর্তে হিন্দি সিনেমা আমদানিতে রাজি হয়েছি। মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে হিন্দি ছবি চালানো যাবে না। বছরের দুই ঈদে মুক্তি দেওয়া যাবে না কোনো হিন্দি ছবি। বছরে ৬-১০টি ছবি আসতে পারবে। হিন্দি ছবি আমদানির মেয়াদকাল হবে দুই বছর।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, “হল মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, হিন্দি সিনেমা আমদানির। আমরা একটা সময় এর বিপক্ষে ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় একমত হয়েছি। তবে হিন্দি সিনেমা আমদানির পরও যদি সিনেমা হল ঘুরে না দাঁড়ায় তখন তাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। যদিও এখানে আমাদের দায় আছে, আমরা মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করতে পারছি না। হিন্দি ছবি এলে যে হলের চেহারা বদলে যাবে— তেমনটা নয়। আগেও হিন্দি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সেগুলো মানুষ দেখেনি। আমাদের উচিত পরনির্ভরশীলতা কমানো।”

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য রিয়াজ বলেন, ‘আমাদের ১২শ হল কমতে কমতে এখন ৫০-৬০টিতে এসে ঠেকেছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো একটা হলও থাকবে না। আমাদের সব সমিতির কথা হচ্ছে, এখন আপাতত হল বাঁচতে হবে। মানুষকে হলে আনার অভ্যাস করাতে হবে। এ জন্য দেশের বাইরের ভালো ভালো কন্টেন্ট এনে হলেও হল সচল করতে হবে। তাই সব সমিতি মিলে নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত হিন্দি ছবি চালানোর পক্ষে। এটা নিয়েই শিগরিই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত জানাবে সমিতিগুলো।’

ব্যক্তিগত মত জানিয়ে রিয়াজ আরও বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত হিন্দি ছবি চালানোর পক্ষে। এটা করতে পারলে হল সচল হবে। ফলে অনেক প্রযোজক নতুন নতুন সিনেমা বানাতে ফিরে আসবেন।’

আরও পড়ুন
আপাতত বাংলাদেশে মুক্তি পাছে না ‘পাঠান’
শর্ত সাপেক্ষে হিন্দি ছবি আমদানির পক্ষে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি
শিল্পীরা বেকার, তাই আমদানি ছবির লভ্যাংশ দিতে রাজি প্রদর্শক সমিতি

অথচ কিছুদিন আগে এই প্রতিবেদকের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াজ জানিয়েছিলেন, হিন্দি সিনেমা আসলেই সিনেমা হল বাঁচবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘হিন্দি ছবি এলেই যে সিনেমা হল বাঁচবে— এমনটি নয়। এদেশের মানুষ সিনেমা হলে গিয়ে হিন্দি ছবি দেখবে কিনা সন্দেহ! হিন্দি ছবির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে নিজস্ব কনটেন্ট বাড়াতে হবে।’

তবে ঘুরে ফিরে সেই পরনির্ভরশীলতার ওপর ইঙ্গিত করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা একটা জায়গায় একমত যে, সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই চলচ্চিত্রশিল্প ঘুরে দাঁড়াবে না।

/আরএসও

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর