বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি, সাংবাদিককে গালিগালাজ 

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি, সাংবাদিককে গালিগালাজ 

আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময় মেজাজ হারিয়ে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরীমণিকে ওই সাংবাদিকের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?’

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে সাংবাদিকদের ভিড়ের মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর বেজায় চটে যান অভিনেত্রী। এই সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তবে যাকে উদ্দেশ্য করে পরীমণির অভিযোগ, সেই সাংবাদিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কেন আপনার গায়ে হাত দেব? আমার ট্রাইপড ভেঙে দিলেন কেন?’ এ সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি টেনে হাত ছিলে ফেলছেন।’

এর আগে আজ সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন জামিন আবেদন করেন পরীমণি। আদালতের বিচারক তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। 

জামিন পাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী লেখেন, ‘গু খা’। 

গত বুধবার (৪ নভেম্বর)  মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিনে পরীমণির উপস্থিতি না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতে সময়ের আবেদন করে জানান, অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় তিনি হাজির হতে পারেননি। তবে আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

২০২২ সালের ৬ জুলাই একই আদালতে সাভার বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন-পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলায় বাদী নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমণি সাভার থানায় বাদী নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

ইএইচ/ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর