গল্পের প্রয়োজনে ক্যামেরার সামনে বিভিন্ন রূপে ধরা দেন অভিনয়শিল্পীরা। ঘনিষ্ঠ দৃশ্যেও দেখা যায় তাদের। যা নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই দর্শকের। ক্যামেরার সামনে এরকম অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কীভাবে নিজেদের মেলে ধরেন শিল্পীরা— প্রশ্ন থেকে যায় তাদের। চলুন জেনে নেওয়া যাক— কীভাবে করা হয় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্দায় চুম্বন কিংবা শারীরিক দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে আগেই প্রস্তুতি সারতে হয়। যার জন্য ব্যয় হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ক্যামেরা কোন অ্যাঙ্গেলে থাকবে, পোশাক কতটুকু থাকবে, শরীরের কোন অংশের দৃশ্য ধারণ করতে হবে— সবই আগে থেকে ছকে ফেলা হয়।
অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের কাজ যারা করে থাকেন তাদের বলে ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’। ভারতের প্রথম সার্টিফাইড ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের সমন্বয়ক আস্থা খান্ন ভরদ্বাজ জানান, ক্যামেরায় ঠিক কতটা ঘনিষ্ঠতা দেখানো হবে, সেটা আগে থেকেই মেপে নেওয়া হয়। এরপর শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিজস্ব সীমানা বা বাউন্ডারি জেনে নেওয়া হয়। সেটে ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটররা কড়া নজর রাখেন, যাতে ঠিক যেটুকু কথা হয়েছিল, ততটাই শুট করা হয়।
অনেক সময় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে বেঁকে বসেন শিল্পীরা। পরিচালকের চাহিদা অনুযায়ী শট দিতে রাজি হন না। তারও সমাধান রয়েছে বলে জানান আস্থা। তার মতে কারও আপত্তিকে সম্মান জানিয়েও পরিচালক চাহিদামতো দৃশ্য নিতে পারেন। সেজন্য দরকার ক্যামেরার কারসাজি। প্রয়োজনমতো ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বদলে দৃশ্যের আবেগ ঠিক রেখে শুটিং করা সম্ভব।
বলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ অনেক আগে থেকে হলেও ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরের প্রচলন ২০১৯ সাল থেকে। রাম কমল মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘সিজনস গ্রিটিংস’ সিনেমায় ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরের ব্যবহার শুরু। হলিউডেও এই পদের যাত্রা বেশিদিনের নয়। ২০১৮ সাল থেকে হলিউডে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যধারণে ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর ব্যবহার করা হয়।
আরআর




