বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়া সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে অভিষেক হলো মার্কিন টেলিভিশন তারকা ও বিউটি মুঘল কাইলি জেনার। রোববার অনুষ্ঠিত ভিক্টোরিয়া সিক্রেটের জমকালো বার্ষিক শোতে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের আইকনিক ফ্যান্টাসি অন্তর্বাস পরে রানওয়েতে পা রাখেন তিনি। শোতে উপস্থিত সবার নজর কাড়েন কাইলি।
জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘জ্যাকব অ্যান্ড কো’-এর তৈরি অন্তর্বাসটি ১৮ ক্যারেট সোনা এবং ৪,৪১০টি হীরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ শিল্পকর্মটি ফুটিয়ে তুলতে ১৫ জন দক্ষ কর্মীর সময় লেগেছে ৪২ দিনেরও বেশি। র্যাম্পে হাঁটার সময় কাইলির পরনে ছিল একটি শিয়ার মিনি স্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং পিঠে সাদা ডানা। তবে সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল চোখ ধাঁধানো ফ্যান্টাসি অন্তর্বাস।

কাইলির আইকনিক পোশাক যেমন বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছে, তেমনি জন্ম দিয়েছে তীব্র সমালোচনা। পেশাদার মডেলদের বাদ দিয়ে কেন একজন টিভি তারকাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে— তা নিয়ে সরগরম ফ্যাশন বিশ্ব। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো মডেলিং দক্ষতা বা রানওয়ের অভিজ্ঞতার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া সিক্রেটের অন্তর্বাস পরা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মডেলদের জন্য ক্যারিয়ারের বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে সমালোচনামুখর কাইলিকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ব্র্যান্ডটির প্রধান কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ফ্যান্টাসি ব্রা-টি কাইলির শরীরে জড়ানো হয়েছে। পোশাকটির জন্য এমন কাউকে প্রয়োজন ছিল যার বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে। বিশ্বজুড়ে কাইলির বিশাল জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে রানওয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেছে কর্তৃপক্ষ।’
সামাজিক মাধ্যম ও মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ জোয়েল মার্লিনারসন বলেন, কাইলির উপস্থিতি ফ্যাশন জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। র্যাম্প মডেলদের ওপর নির্ভর না করে ব্র্যান্ডগুলো এখন এমন সব সেলিব্রিটিদের বেছে নিচ্ছে, যারা বিশাল সংখ্যক ক্রেতাকে খুব সহজে আকর্ষণ করতে পারেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে কাইলিকে বেছে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, ব্রিটিশ মডেল সামার নেসবেথ বলেন, কাইলির প্রতি মানুষের ক্ষোভ ও হতাশা অমূলক নয়। তবে ব্র্যান্ডটি মূলত তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ বাড়াতে এই কৌশল নিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন— বিশ্বের বহু মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি অন্তর্বাসের পেছনে এত অর্থ ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক?
নানা সমালোচনার মুখে পড়ে ২০১৮ সালে বার্ষিক শো বন্ধ ঘোষণা করেছিল ভিক্টোরিয়া সিক্রেট। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর ব্র্যান্ডটি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
ইএইচ/




