গেল মাসে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী। শুরুতে হাসপাতালের ফ্লোরে দিন কাটলেও বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় তাকে। সঙ্গে মেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। আজ সোমবার খোঁজ নিয়ে জানা গেল এখনও চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। সম্প্রতি দীর্ঘ এক অস্ত্রোপচার হয়েছে তার।
ঢাকা মেইলকে রিফাত চৌধুরী বললেন, ‘এখন বেশ ভালো আছি। গেল বৃহস্পতিবার মেরুদণ্ডে সফল অস্ত্রোপচার হলো। গতকাল রোববার ব্যান্ডেজ খুলে নতুন করে দিয়েছে। আজ আবার ডাক্তার এসে দেখে গেলেন।’
গেল মাসে রিফাত চৌধুরী চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে এলে সঙ্গে কেউ ছিল না। তবে এখন আর একা নন তিনি। স্বজনরা দাঁড়িয়েছেন পাশে। হাসপাতালে দেখভাল করছেন তারাই। সব ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে ছুটি মিলবে তার। তবে এবার আর একলা জীবন বেছে নেওয়ার ইচ্ছা নেই রিফাত চৌধুরীর। জানালেন মেয়ের বাসায় উঠবেন। বললেন, ‘ডাক্তার বলেছেন সপ্তাহ খানেক পর ছুটি মিলতে পারে। এখান থেকে ছাড়া পেয়ে মেয়ের বাসায় উঠব। কেননা মেজর অপারেশন হয়েছে। হাঁটতেও পারছি না। রুটিনমাফিক চলতে হবে। এভাবে একা থাকা সম্ভব না। কেননা এতদিন সেভাবে চিকিৎসাও হয়নি। ডাক্তার বলেছেন সেরে উঠতে সময় লাগবে।’
সেরে উঠলেও আর অনিয়মের সঙ্গে সখ্যতা গড়বেন না জানিয়ে তিনি বলেন, আমার তো অনিয়মটাই নিয়মিত হয়ে গিয়েছিল। এবার থেকে অনিয়মের ধারেকাছে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। সুস্থ থাকার প্রয়োজনে সব মেনে চলতে হবে।’
এর আগে রিফাত চৌধুরী জানিয়েছিলেন আর অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা নেই। এবার জানালেন জীবিকার তাগিদে পুরনো পেশায় ফিরতে হবে তাকে। বললেন, ‘আমার আর কোনো পেশা নেই। লিখেও সেরকম আয় করা যায় না। পকেটে অর্থ যা আসে সেটা অভিনয় থেকেই। তাই ফিরতে হবে। তবে এবার অভিনয়ের চেয়ে নির্দেশনায় (নির্মাণ) মনযোগ বেশি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’
মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত এ কবি ও অভিনেতা বললেন, ‘জানতাম-ই না আমাকে এত মানুষ ভালোবাসে। সবাই চারদিক থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, দোয়া করেছেন। মানুষের এই ভালোবাসায় চোখ ভিজে আসে। ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালের সবাইও দেখভাল করছেন, খোঁজ নিচ্ছেন। ওনারা এমনিতে অনেক ব্যস্ত থাকেন। কেননা দেশের ৮০ ভাগ রোগী ঢাকা মেডিকেলে আসে। এখান থেকে কাউকে ফেরানো হয় না। এতসব রোগী সামলানো, দৌড়ঝাঁপের মধ্যেও আমার দিকে তাদের যে মনোযোগ তাতে আমি সন্তুষ্ট।’
রিফাত চৌধুরীর মতে ঢাকা মেডিকেলে তিনি যে চিকিৎসা পাচ্ছেন সেটি কোনো বেসরকারি হাঁসপাতাল থেকে নিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হতো। তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট হসপিটালে চিকিৎসা নিলে প্রচুর অর্থ দরকার পড়ত। অত টাকা আমার নেই। তাছাড়া এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে সর্বোচ্চ ছাড় দেবে বলেছে। অনেকদিন হলো আছি। কেবিন ভাড়াসহ খরচ যা জমেছে সেসব নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে না করেছে। তাদের কথা, আপনি সুস্থ হন বাকিটা আমরা দেখছি।’
আরআর




