শাহরুখ খান যখন দক্ষীণ আফ্রিকায় ‘কিং’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত তখন বলিউড কাঁদছে নানা পাটেকরকে হারিয়ে। সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে শোক ছুঁয়েছে বাদশাহকেও। প্রিয় অভিনেতাকে গুরু সম্বোধন করেছেন দিয়েছেন শোকের বিবৃতি।
কিং খান লিখেছেন, “ওঁনার সঙ্গে যখন প্রথম দেখা হয়, তখন বিস্ময় ও অস্বস্তির কারণে আমি বারবার নিজের চুলে হাত দিচ্ছিলাম। উনি আমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘নায়কদের মতো চুল কোরো না… তুমি না একজন অভিনেতা!’’

এরপর নানার চরিত্র বিশ্লেষণ করে শাহরুখ লিখেছেন, ‘নানা তোষামোদ করতেন না। আপনি যা শুনতে চাইতেন, উনি তা বলতেন না। আপনার যা শোনা প্রয়োজন, উনি ঠিক সেটাই বলতেন। এমনই ছিলেন নানা পাটেকর। সোজাসাপটা। কঠোর অথচ সৎ, আর ওঁনার হাসিটা ছিল অপূর্ব। ভালোবাসা প্রকাশের ধরনটাও অবশ্য ছিল একটু অন্যরকম। প্রথমে হয়তো উনি আপনার উপর চিৎকার করবেন, কিন্তু তিন-চারবার কড়া কথা শোনার পরই কখন যে জড়িয়ে ধরতেন।’
প্রয়াত অভিনেতাকে নিজের পরামর্শক, শিক্ষক সম্বোধন করেছেন শাহেনশাহ। লিখেছেন, ‘তিনি আমাকে ভালোবাসতেন, আমিও তাঁকে ভালোবাসতাম। উনি যেমন একাধারে আমার পরামর্শদাতা, শিক্ষক, সমালোচক ছিলেন, তেমনই বন্ধুও ছিলেন— যিনি ক্যারাম খেলায় আমাকে এবং আশেপাশের সকলকে হারিয়ে আনন্দ পেতেন।’

নানার পাটেকরের সঙ্গে শাহরুখের ছিল গভীর সম্পর্ক। ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’, ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয়ও করেছেন তারা। বার দুয়েক স্ক্রিন শেয়ার করলেও নানার সঙ্গে আত্মীয়তা ছিল লাইফটাইম। সুপারস্টার হয়ে ওঠার আগে শাহরুখের দুঃসময়েও পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতা। কিং খানকে জেল থেকে ছাড়িয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
শাহরুখ তখনও কিং খান হয়ে ওঠেননি। সে সময় এক নায়িকার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে চটুল খবর ছেপেছিল বিনোদন ম্যাগাজিন। বিষয়টি এতটাই চর্চায় এসেছিলে যে ঢেউ লেগেছিল সংসারে। রগরগে খবর পড়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন গৌরি। ঘরে শুরু হয়েছিল অশান্তি। নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি শাহরুখ। ওই সাংবাদিকের গালে কষে চড় বসিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও বিপরীতে যায় কিং খানের। হাতে হাতকড়া ওঠে তার।

জেলে শাহরুখ কাউকে ফোন করতে পারবেন জানালে ওই সাংবাদিককেই ফোন করে গালাগাল করেন অভিনেতা। এতে আরও জল ঘোলা হয়। ওই সময় শাহরুখের পাশে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান নানা পাটেকর। জেল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। সে ঘটনা কখনও ভোলেননি শাহরুখ। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন নানা। বলেছিলেন, ‘অনেকেই সাহায্যের কথা মনে রাখেন না। বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যান। তবে শাহরুখ ভোলেনি। ও আমার সন্তানসম। ও কিন্তু সেদিনের কথা আজও মনে রেখেছে।’ নানার মৃত্যুর পর শাহরুখের আবেগঘন পোস্ট এবং প্রয়াত অভিনেতাকে ‘আমার হিরো-অভিনেতা’ সম্বোধন যেন তারই প্রমাণ।
আরআর




