চেক বাউন্স মামলায় ফের বিপাকে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব। ৯ কোটি রুপি সময়মতো ফেরত দিতে না পারায় গত ফেব্রুয়ারিতে বেশ কিছুদিন জেল খেটেছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। তবে তার কাঁধে ঝুলছে বকেয়া পরিশোধের চাপ। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে দেনা পরিশোধের জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিল।
আদালতের নির্দেশ মেনে বুধবার (৭ অক্টোবর) ১ কোটি ১৫ লাখ রুপির একটি ডিমান্ড ড্রাফট হাতে নিয়ে সশরীরে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন রাজপাল। তবে বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার জন্য তিনি আদালতের কাছে আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেন।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। শুনানির সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিচারপতি প্রথমে রসিকতা করে রাজপালকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার সিনেমার মতো আপনার টাকাও উধাও হয়ে গেল। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘মানুষকে বিনোদন দিতে দিতে আমার জীবনটাই এখন বিনোদনে পরিণত হয়েছে। গত ১৩ বছর ধরে ওই লোকগুলো আমাকে সিনেমা বানাতে দেয়নি। প্রতিশোধের ৫ কোটি টাকার জন্য আমার ২২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। অভিযোগকারী প্রথমে আমাকে বলেছিল, আমি নাকি ১০০ কোটি টাকার মালিক। তারপর তিনি আমাকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। আমি ২০০টি ছবিতে কাজ করেছি, আর ওরা আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আবার কাজ পাচ্ছি।’
শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনাকে নিয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে। আদালত অভিনেতার বাকি টাকা পরিশোধের সময়কাল বাড়ানোর আবেদন দুই সপ্তাহের জন্য মঞ্জুর করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রাজপালকে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নিজের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রযোজনা সংস্থার কাছ থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। ২০১২ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ছবিটি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও লোন শোধ করতে পারেননি অভিনেতা। পাওনা ফেরত দিতে গড়িমসি করায় প্রযোজনা সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট রাজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটি অভিযোগে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
ইএইচ/




