রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষোভ সালমান মুক্তাদিরের

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষোভ সালমান মুক্তাদিরের

শনিবার রাতে ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে যে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে,তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিওবার্তায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদির। একইসঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সালমান অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাত চারটা পর্যন্ত তিনি নিজে ক্যান্টনমেন্ট থানায় বসেছিলেন। অথচ এত বড় ঘটনার পরও কেন তাৎক্ষণিকভাবে মামলা গ্রহণ করা হলো না এবং বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন পুলিশ  নিষ্ক্রিয় ছিল, তার জবাব দেশবাসীকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনার (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) আন্ডারে প্রতিটি থানা ও প্রশাসন পরিচালিত হয়। প্রত্যেকটি থানা,অথরিটি, এডমিন আপনার এক বাটনের আন্ডারে। অথচ আপনি জানেন না যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপনার কাছে আপডেটটা নাই। আপনি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে কীভাবে এতটুকু ডিটাচ থাকতে পারেন?’ সালমান জানান, তিনি নিয়মমাফিক মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর ভিডিও বার্তায় বিএনপির নাম ব্যবহার করা প্রসঙ্গে সালমান বলেন, ‘আমি কেন বিএনপির চাঁদাবাজির কথা বললাম—তা শুনে আপনার মুচকি হাসি দেখে আমারও হাসতে ইচ্ছে করছে। আমরা দুজনেই আজ অসহায়; আপনিও কিছু করতে পারছেন না, আমিও না। আপনিও হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন, আমিও দিচ্ছি। এটাই বাংলাদেশ! দেশের ক্ষমতায় এখন বিএনপি, আর জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনার। আপনার আমলে যখন এসব ঘটে, তখন কি আপনার বোঝা উচিত নয় যে কাল আপনারও পালানোর উপায় থাকবে না? ইতিমধ্যে তিনজনকে ধরা হয়েছে, অস্ত্র-আলামত উদ্ধার হয়েছে। তাদের ভিডিও ও চেহারায় দেখা গেছে, গণপিটুনি খেয়ে স্বীকার করেছে তারা বিএনপির করে। এতকিছুর পরও বলতে পারব ...?’

ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী আসনের মতো সংবেদনশীল স্থানে ঘটার পরও প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের ১৭ নম্বর আসনে, দেশের পরিচিত একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে একটা ঘটনা ঘটে গেল! আর আপনি বললেন ‘একটু টুকটাক ভাঙচুর।’ আপনার মধ্যে কি একটুও সহানুভূতি আছে? আপনি কি বোঝেন এখানে কী ভাঙচুর হয়েছে? বাংলাদেশের আর্ট-কালচার ও স্বাধীনতার অবস্থা আপনার ধারণায় আছে কি? এর থেকে বড় বড় ঘটনা দিয়ে তো আপনাদের সরকারকেই চলে যেতে হয়েছিল। কারও কষ্ট বা ক্ষতির সাথে একটু কি কানেক্ট করতে পারেন?”

তিনি যোগ করেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা ও সার্ভার পর্যন্ত ভেঙে সবকিছু লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর একে কেবল সামান্য ভাঙচুর বলা দায়িত্বহীনতার পরিচয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার স্টুডিওর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেয়ে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের ছাড় না দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর