যতটা অভিনেতা তার চেয়ে বেশি যেন সমাজসেবক বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ। যেকোনো দুর্যোগে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান। এবার তিনি নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে ত্রাণ বিলি করছেন বিহারের বন্যা কবলিতদের মাঝে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
বন্যায় বিহারের গ্রামগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মারাত্মকভাবে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নৌকায় চেপে পৌঁছে গেছেন সোনু। সঙ্গে ত্রাণ সামগ্রী। বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের হাতে সাধ্যমতো তুলে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সেসব মুহূর্তের ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও প্রকাশ করছেন অভিনেতা।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া ভিডিওবার্তায় সোনু জানান, টিম নিয়ে নৌকা করে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলতে ঘুরে বাড়াচ্ছেন তিনি। বন্যা আক্রান্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন। অভিনেতার কথায়, “এই মুহূর্তে আমরা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাচ্ছি যাতে যতটা সম্ভব বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায়। এরপর আমরা পরবর্তী গ্রামে যাব। যথাসম্ভব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করব।”
বন্যা কবলিত এলাকায় সোনু পাশে পাচ্ছেন স্থানীয়দের। মাঝি-মাল্লা, বাসিন্দারা তাদের কাজ সহজ করে দিচ্ছেন জানিয়ে সোনু বলেন, “স্থানীয় গ্রামের বহু মানুষ আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন। আমরা সেই পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজটা কঠিন, কিন্তু আমাদের ভাই-বোন, মাঝি ও গ্রামবাসীরা প্রত্যেকে খুব সাহায্য করছেন যাতে সহজে দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে পারি। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, আমাদের পেছনেই মানুষজন পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। যাঁরা কষ্টে আছেন, তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করব। জয় বিহার।”
‘বিহারের স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’ -এর বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের ১৫টি জেলা, ৮৮টি ব্লক, ৫৭৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা বন্যার কবলে। বর্তমানে সাতটি ত্রাণ শিবিরে ৮,৯৪৮ জন বন্যাদুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং ৫০টি কমিউনিটি কিচেন বা গণ-রান্নাঘর থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬৩ হাজার বার খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। এমন দুর্দশায় কেঁদে উঠেছে সোনুর মানবিক হৃদয়। ছুটে গেছেন বন্যা কবলিতদের মাঝে।
পাঞ্জাবসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা কবলিতদের মাঝে বিভিন্ন সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন সোনু। এর আগের নেপালের বন্যায়ও ত্রাণ নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন। এতে শুধু প্রশংসিত-ই হন না অভিনেতা। জোটে কটাক্ষও। সেসব গায়ে মাখেন না। নিজের মতো করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি অব্যহত রাখেন।
আরআর




