গুরুতর অসুস্থ অভিনেতা ও কবি রিফাত চৌধুরী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কষ্টেসৃষ্টে দিন কাটছে তার। গেল ১৪ তারিখে ভর্তি হলেও শুরুতে ফ্লোরে থাকতে হয়েছে গুণী এ অভিনেতাকে। পরে মিলেছে বেড। এরইমধ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। তবে খবরটি জানেন না ছোট পর্দার অভিনয় শিল্পীদের সংগঠন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম।
আজ মঙ্গলবার সকালে রিফাত চৌধুরীর অসুস্থতার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেইলকে আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘রিফাত চৌধুরীর অসুস্থতার খবর আমি জানি না।’ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম সরগরম তবুও চোখে পড়েনি! বিস্ময় প্রকাশ করলে সংঘের নেতা বললেন, ‘আমি নিজেই অসুস্থ। সেজন্য হয়তো চোখে পড়েনি।’ এ সময় তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপুর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
অপু জানালেন খবরটি গতকাল সোমবার তার নজরে এসেছে। আজ মঙ্গলবার সংঘের একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে রিফাত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে। বিলম্বের কারণ হিসেবে অপু জানালেন রিফাত চৌধুরীর সংঘের সদস্য নন। সে কারণেই তার অসুস্থতার খবর পেতে দেরি হয়েছে।
তবে অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সংঘ সদস্য পদ বিবেচনা করে না উল্লেখ করে অপু বলেন, ‘শিল্পীদের সমস্যায় আমরা নিজ উদ্যোগে এগিয়ে যাই। কে সদস্য আর কে সদস্য না— বিবেচনা করা হয় না। রিফাত ভাইয়ের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের একটি প্রতিনিধি দল আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে।’
সংগঠনের সীমাবদ্ধতাও সামনে আনলেন এ নেতা। তার কথায়, ‘অভিনয় শিল্পী সংঘের ১৫০০ সদস্য। অধিকাংশের চিকিৎসার ব্যাপারগুলো আমাদের দেখতে হয়। এর বাইরে সময় হয় না কিংবা সামর্থ্য নেই। তবে রিফাত ভাই আমাদের মেম্বার না এটা কোনো বিষয় না। ওনার বিষয়টি গতকাল থেকে সিরিয়াসলি দেখছি। আজ অভিনয় শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে আমরা কিছু আর্থিক সাহায্য রিফাত ভাইকে করব। ওনার জন্য একটি তহবিল গঠন কীভাবে করা যায় সেটা দেখছি।’
অভিনয় সংঘের ১৫০০ সদস্যের বাইরে থাকা শিল্পীর সংখ্যা কম না। তাদের জন্য কোনো পরিকল্পনা সংঘের আছে কি না— জানতে চাইলে অপু বলেন, ‘সংগঠনগুলো চলে সদস্যদের চাঁদায়। সবচেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি অসুস্থতার বিষয়ে। কেননা চাঁদার বাইরে সংগঠনের ফান্ডের কোনো সোর্স নেই। রাষ্ট্রও এ ব্যাপারে উদাসীন। এরকম পরিস্থিতিতে নিজেদের সদস্যদের থেকে হয়তো সহায়তা নেই। কিন্তু যে পরিমাণ অসুস্থতা ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় সেক্ষেত্রে সহায়তা করার মতো সামর্থ্য-ই বা আমাদের কয়জনের আছে? একজনের কাছেই বা কয়বার টাকা চাওয়া যায়। কোনো কর্পোরেট বা সরকারের কেউ নেই যে আমাদের সাহায্য করবে। সংগঠনের একার পক্ষে সামাল দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার মতো অবস্থা হয়। তারপরও আমরা হাল ছাড়ি না।’
সবশেষে সংঘের সদস্য হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অপু বলেন, ‘সদস্যদের জন্য একটি সংগঠন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সংগঠন কাউকে একা থাকতে দেয় না। এক ছাতার নিচে থাকলে যোগাযোগ থাকে। ফলে কারও অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো সমস্যা হলে আমরা দ্রুত অবগত হতে পারি।’
আরআর




