যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে প্রেমনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে আইনি নোটিশ পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমের নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের সাতটি সংগঠন।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে বর্তমান নাটক ও চলচ্চিত্রে মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্ট ও পরকীয়ার আধিক্যের অভিযোগ এনে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট করার কথা বলা হয়।
আইনি নোটিশের খবর প্রকাশের পর গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করে যৌথভাবে প্রতিবাদলিপি দিয়েছে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজুয়াল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নাটক ও সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং শিল্পীর মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি সৃজনশীল মাধ্যমের নির্দিষ্ট কোনো ধারা বা রোমান্টিক নাটক-সিনেমা সামগ্রিকভাবে বন্ধের উদ্যোগের ফলে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই সামগ্রিকভাবে এ ধরনের নাটক নির্মাণ বন্ধের দাবি কোনোভাবে সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। একই সঙ্গে শিল্প সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন।
টেলিভিশন শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মক্ষেত্র টিকিয়ে রাখা এবং বিনোদন অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ হলেন:
ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ: শহীদুজ্জামান সেলিম (সভাপতি) ও ফরিদুল হাসান (সাধারণ সম্পাদক)
অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ: আজাদ আবুল কালাম (সভাপতি) ও রাশেদ মামুন অপু (সাধারণ সম্পাদক)
টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ: শিহাব শাহিন (সভাপতি) ও মেজবাহ উদ্দীন সুমন (সাধারণ সম্পাদক)
ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ: সাহিল রনি (সাধারণ সম্পাদক)
অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স এসোসিয়েশন: সাদেক সিদ্দিকী (সভাপতি)
টেলিভিশন এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ: রাজ্জাক রাজ (সাধারণ সম্পাদক)
বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট এসোসিয়েশন: মাহবুব রহমান মানিক (সভাপতি)
ইএইচ/




