শুটিং শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পর অবশেষে মুক্তির আলো দেখতে যাচ্ছে মীর রাব্বি ও প্রিয়ন্তী ঊর্বী অভিনীত নতুন সিনেমা ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’। সামাজিক সচেতনতা ও হরর ঘরানার সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় খলচরিত্রে হাজির হচ্ছেন রাব্বি। জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এত দিন মুক্তি আটকে ছিল। শিগগিরই সেন্সর বোর্ডে জমা পড়বে সিনেমাটি।
নিজের চরিত্র নিয়ে ঢাকা মেইলকে রাব্বি বলেন, ‘সিনেমাটি দর্শকরা দেখার পর বোঝা যাবে চরিত্রটি কেমন হয়েছে। তবে প্রস্তুতি ভালো ছিল। সিনেমার অন্য চরিত্রগুলোর লুক শুটিংয়ের আগে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু আমার চরিত্রের লুক শুটিংয়ের দিন সকালে সেটে গিয়ে ঠিক করা হয়। এরপর শুটিং শুরু হয়। আশা করছি, বাকি চরিত্রগুলোর সাথে মিলে ভালো কিছু হবে।’
শুটিংয়ের দিন সেটে রাব্বির ভয়ংকর লুক দেখে আঁতকে উঠেছিলেন তাঁর সহশিল্পী প্রিয়ন্তী ঊর্বী। সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিনেতা বলেন, “আমার চরিত্রের লুক কেমন হবে, কীভাবে হাঁটে, কথা বলে— নিজেও জানতাম না। শুটিংয়ের জায়গাটি ছিল একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিত্যক্ত কলোনির মতো। রাস্তা থেকে প্রায় ১০-১৫ মিনিটের দূরত্ব। সেখানে গাড়ি যায় না। হেঁটে যেতে হয়েছিল। হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম চরিত্রটি কীভাবে হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে। সেটে গিয়ে একটি কর্নারে বসে পড়লাম। আমি খেয়াল করিনি কেউ দেখছে কি না। কিছুক্ষণ পরে একজন সহকারী এসে বলল, ‘উর্বি আপু আপনাকে দেখে ভয় পাচ্ছেন! আপনাকে একটু সরে গিয়ে বসতে বলছে’।”
ডিসেম্বরের কনকনে শীতের মধ্যে সিনেমার শুটিং চলেছে। তীব্র শীতের মধ্যেও পরিচালকের দেওয়া সময়ে শুটিং সেটে পৌঁছে যেতেন ঊর্বী। অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ‘কাজের অভিজ্ঞতা খুবই চমৎকার। আমরা পুরো টিম অনেক পরিশ্রম করেছি। এমনও দিন গেছে ভোর ৪টায় কাজ শুরু করেছি। ২ ঘণ্টার মধ্যে হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে গাড়িতে ঘুমাতে ঘুমাতে এসে পরের শুটিং করেছি। ডিসেম্বরের তীব্র শীতে নরসিংদীতে নদীপাড়ে খালি পায়ে ও কম কাপড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুট করেছি। ঊর্বীও খুব পরিশ্রম করেছেন।’
সিনেমাটিতে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে ঊর্বী বলেন, ‘চরিত্র নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। শুধু এতটুকু বলতে পারি সিনেমাটি হরর জনরা এবং সামজিক সচেতনা নিয়ে নির্মিত।’
বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে বেশ নাম কামিয়েছে শাহরিয়ার পলক। ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’ তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। পরিচালকের প্রশংসা করে রাব্বি বলেন, “এর আগে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’র মতো প্রজেক্ট, মিউজিক ভিডিও এবং বিজ্ঞাপনের কাজের জন্য বেশ পরিচিত। উনি পরিচালনা পাশাপাশি এডিটিং করতে পারেন। নিজের কাজ এডিটিং করার বিশেষ ক্ষমতা থাকায় সিনেমাটির খুব সুন্দর আউটপুট আসবে বলে আশাবাদী।”
জানা গেছে, সেন্সরের ছাড়পত্র পেলে সিনেপ্লেক্স ঘুরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
ইএইচ/




