দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সাধারণ মানুষের দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। তাঁর স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পোস্টে সমাজের বিচার ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গায়ক। তিনি লেখেন, ‘সামান্য টিফিন চুরি বা ছোটখাটো অপরাধে একজন শিক্ষককে যেভাবে হেনস্থা করা হয় এবং গণমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচার করা হয়। নড়ে ওঠে সো কলড নেটিজেন। পাবলিক রিঅ্যাকশনও খুব গরম। সামান্য খাবার চুরির অপরাধে এদেশে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় মানুষ কিংবা বোবা প্রাণী। এদিকে লুটেরা দেশটাকে লুটে যাচ্ছে। রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে দেশটাকে খোকলা করে আবার এরাই হয়ে যায় জনপ্রতিনিধি। সাধারণ জনতাই তাদের নেতা বানায়, অভিভাবক বানায়।’
রাজনীতির দুষ্টচক্র নিয়ে আসিফ লেখেন, ‘সাধারণ মানুষ প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে বারবার ভুল মানুষের পিছু নেয়, আন্দোলন করে ত্যাগী হয়, অথচ পরবর্তীতে নিজেদের তৈরি সেই "ফ্রাঙ্কেনস্টাইনকেই" আবার নেতার আসনে বসিয়ে মার খায়। এই সার্কেলেই চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি আর সমাজ ব্যবস্থা। উচ্চশিক্ষিত চর্বিওয়ালারা জানে চুরির সব অভিনব কৌশল, কাঙালের দল সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে হয় লোভী, তারাই সেই চোরকে আবার দেয় প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব।’
তিনি আরও লেখেন, “১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায় প্রথম সবাক বাংলা সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায় তীর্থস্থান সফররত গুপ্ত বিহারী ফ্যাসিস্ট অভিনীত প্রথম অবাক ছবি—গণভবন। আজ ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার ৭০ বছর পূর্ণ হলো। কয়দিন আগে দেখলাম সাফ ফুটবলের বসও হলেন সেই ফ্যাসিস্টেরই রেপ্লিকা। নির্বাচিত বাফুফে আর অথর্ব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্পিকটি নট, খুব হিসেব কষে চলছে নতুন তাদের নির্বাক ছবির শুটিং। এগুলো সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো ডিজাইন।”
দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য দেশবাসীকে দায়ী করে আসিফ লিখেছেন, ‘এই দেশের মানুষের বাইরের শত্রুর প্রয়োজন নেই। নিজেদের বিনাশের জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট। বিষাক্ত কালচারাল ফ্যাসিস্ট ও দালাল মিডিয়া দেশের ভেতরের ফ্রন্টলাইন শত্রু। এই সত্যটা বুঝলে ভালো। না বুঝলে তো পরিস্থিতি একই রকম আছে। সমস্যার কিছু নেই। প্রাণ দেবে তারুণ্য। ভুগবে তার পরিবার। এনজয় করবে এলিট শ্রেণি আর হাততালি দেবে কাঙালের দল। এটাই নিয়ম।’
ইএইচ/




