সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে মিস অ্যান্ড মিসেস প্লাস বিউটির গ্র্যান্ড ফিনাল। ওই অনুষ্ঠানের কিছু ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে যেখানে পারফর্মারদের পারফর্ম ও বেশভূষা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে বিচারকের আসনে দেখা গেছে জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম জামান ও মোশাররফ করিমকে। যা ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর মতো গুণী অভিনেতা ও নির্মাতা কীভাবে এ অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবে অংশ নিলেন? পুরো ঘটনাটিকে অনুরোধের ঢেঁকি গেলা উল্লেখ করে ঢাকা মেইলকে শামীম বলেন, ‘শিল্পীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো হবেই। কিছু করার নেই। অনেক সময় অনুরোধের ঢেঁকি গিলতে হয়। এটাও অনুরোধের ঢেঁকি গিলা।’
তবে অভিনেতার অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ ওই অনুষ্ঠানের মূল প্রতিযোগী ছিলেন আটজন নারী। অভিনেতা জানান, অ্যাডলফ খান ওই অনুষ্ঠানে একটি গানের সঙ্গে নাচ পরিবেশন করেন এবং তাঁর হাতে একটি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তিনি ‘মিস অ্যান্ড মিসেস প্লাস বিউটি’-এর প্রতিযোগী নন।

অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে শামীম জানান, এটি মূলত নারীদের জন্য তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। যেসব নারী বিয়ে বা সন্তান হওয়ার কারণে ছোটবেলার অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি, তাঁদেরকে অভিনয়ে সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন। অভিনেতার ভাষ্য, ‘আমি ও মোশাররফ (মোশাররফ করিম) দুজনে ওই কারণে গিয়েছিলাম যেন কিছু মানুষের স্বপ্ন পূরণে একটু হলেও ভূমিকা রাখতে পারি। আমরা তো অন্য কোনো উদ্দেশ্যে যাইনি।’
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিযোগীদের বাদ দিয়ে অ্যাডলফের নাচ ও পুরস্কার প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে সমালোচনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। শামীমের কথায়, ‘ওখানে অনেকেই পারফর্ম করতে এসেছিলেন। তবে মূল প্রতিযোগী ছিলেন আটজন। আমরা তাঁদের পারফরম্যান্স দেখেছি, বিচার-বিশ্লেষণ করেছি। মূল প্রতিযোগীদের বাইরে কে এসে নাচলো বা কী করল—সেটার সাথে আমাদের জড়িয়ে যদি মানুষ সমালোচনা করে তাহলে কিছু করার নেই। সমালোচকরা আসল বিষয়টা না বুঝেই কথা বলছেন।’
এদিকে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি। শামীম বলেন, ‘যাকে নিয়ে সমালোচনা, সে আসলে একটা নাচ করেছে আর একটা পুরস্কার নিয়েছে। অ্যাডলফকে তো জাজ করা হয় নাই। মিডিয়াগুলো আসল প্রতিযোগীদের তুলে না ধরে তাঁকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ সবসময় উল্টো পথে চলে।’
যদিও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন বলে জানান শামীম। তিনি বলেন, ‘আমি সারাজীবন সমালোচনা হবে এমন কোনো কাজ করিনি, করতে চাইও না। কিন্তু তারপরও হয়ে গেছে। এটা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। তবে পরবর্তীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের বিচারক হওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্ক হব।’
সম্প্রতি শামীম জামান পরিচালিত ‘এক পাতিলের সংসার’ নামের নতুন ধারাবাহিক প্রচার শুরু হয়েছে। প্রথম পর্ব প্রচারের পর দর্শক প্রতিক্রিয়ায় বেশ আশাবাদী নির্মাতা। একই সাথে নাটকে সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের যুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সময়ের দাবিতে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন হচ্ছে। যাঁরা ভদ্র ও কাজ শিখতে আগ্রহী, তাঁদের সাথে কাজ করতে কোনো আপত্তি নেই তাঁর।
ইএইচ/




