রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জন্মদিন

ফ্লপ হিরো থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী, যেভাবে ইতিহাস গড়লেন বিজয়

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

ফ্লপ হিরো থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী, যেভাবে ইতিহাস গড়লেন বিজয়

আশির দশকের শুরুর দিকের কথা। তখনও স্কুলের গণ্ডিটাই পার হতে পারেননি। বাবার হাত ধরে মাত্র ১০ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে রূপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ‘ভেত্রি’ সিনেমায় ছোট্ট একটা চরিত্রের জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ৫০০ রুপি।

জীবনের প্রথম ভোটে ১২০ আসন পেতে যাচ্ছেন থালাপতি বিজয়

চলচ্চিত্রের চেনা আঙিনায় পা রাখার ৪২ বছর পর, সেই ছোট্ট ছেলেই এখন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী! তিনি আর কেউ নন, ভারতের কোটি ভক্তের প্রিয় অভিনেতা থালাপথি বিজয়। ক্ষমতার মসনদে বসার মাত্র দুই বছর আগে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। রাজনীতিকে পুরো সময় দিতে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারকে।

বিজয়ের এই রূপকথার মতো যাত্রার শুরুটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। তিনি বড় হয়েছেন এক সাংস্কৃতিক পরিবারে। তাঁর বাবা এস. এ. চন্দ্রশেখর চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক এবং মা শোবা চন্দ্রশেখর প্লেব্যাক গায়িকা। বাবার পরিচালনায় বেশ কিছু সিনেমায় টুকটাক অভিনয় করে হাত পাকান বিজয়।

বিজয় থালাপতির সমাবেশে প্রাণ গেল যুবকের

এরপর ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থেরপু’ সিনেমা দিয়ে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বিজয়ের। কিন্তু প্রথম সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। সে সময় বিজয়ের লুক আর অভিনয় নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে ভেঙে পড়েননি তাঁর বাবা। পরের বছরই দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়কান্তের সঙ্গে ‘সেন্দুরাপান্দি’ সিনেমায় বিজয়কে কাস্ট করেন। ব্যস, নায়ক হিসেবে নিজের দ্বিতীয় সিনেমাতে সাফল্যের মুখ দেখেন বিজয়। দর্শক মহলেও হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। এরপর ১৯৯৪ সালে ‘রাসিকান’ সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পর ভক্তরা ভালোবেসে তাঁকে নাম দেন ‘ইলাইয়া থালাপথি’ বা তরুণ কমান্ডার।

image

নব্বইয়ের দশকে বিজয়কে ছাড়া যেন রোমান্টিক সিনেমার কথা চিন্তাই করা যেত না। তবে ২০০০ সালের পর তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। ২০০৩ সালে ‘থিরুমালাই’ দিয়ে পর্দায় অ্যাকশন হিরো হিসেবে হাজির হন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ব্লকবাস্টার ‘গিলি’ সিনেমাটি তাঁকে এনে দেয় সুপারস্টারের খ্যাতি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই তারকাকে। ২০০৭ সালের ‘পোক্কিরি’ সিনেমার মাধ্যমে বক্স অফিসে মেগাস্টার রজনীকান্তের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে তাঁর ঠিক পাশেই নিজের জায়গা পাকা করে নেন বিজয়।

বিচ্ছেদকে না, স্ত্রীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছেন বিজয় থালাপতি!

২০১০ সালের পর থেকে বিজয়ের ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মেরসাল’, ‘মাস্টার’ ও ‘লিও’র মতো সিনেমাগুলো বক্স অফিসে আয়ের রেকর্ড গড়ে। সিনেমার পাশাপাশি তিনি তাঁর বিশাল ভক্তদের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত করেন। জনসেবা পরবর্তীতে তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

image

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিজয় রাজনীতিতে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ‘তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগাম’ (টিভিকে) নামে নতুন দল গঠন করেন। লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। নায়ক হিসেবে নিজের শেষ সিনেমা ‘জন নায়কন’ মুক্তির আগেই ভোটের মাঠে নেমে পড়েন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই বিজয়ের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মে মাসের ৪ তারিখে ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, বিজয়ের নতুন দল একাই ১০৮টি আসন জিতে বাজিমাত করেছে! বিজয় নিজে যে দুটি আসনে দাঁড়িয়েছিলেন, দুটিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। যদিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কয়েক দিন বেশ নাটকীয়তা চলে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গঠন করেন বিজয়।

আজ ২২ জুন অভিনেতার জন্মদিন। তিনি ৫১ পেরিয়ে ৫২ বছরে পা রখছেন।  

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর