শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আলাপন

দর্শক আজ মাথায় তুলতে পারেন, কাল নাও চিনতে পারেন: চিত্রলেখা গুহ

মো. ইনামুল হোসেন
প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

দর্শক আজ মাথায় তুলতে পারেন, কালকে নাও চিনতে পারেন: চিত্রলেখা গুহ
চিত্রলেখা গুহ
মঞ্চ দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী চিত্রলেখা গুহ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন নাটক, সিনেমা ও টেলিভিশনে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙেছেন নতুন নতুন চরিত্রে। সম্প্রতি নন্দিত এ অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হয় ঢাকা মেইলের। 

‘বিয়ের কোনো বয়স নেই’ নাটকটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। শুটিংয়ের সময় কি ভেবেছিলেন নাটকটি এমন সাড়া পাবে? 

না, শুটিংয়ের সময় কোনো অভিনয়শিল্পী এমনটা ভাবেন না। আমাদের কাছে প্রতিটি কাজ সন্তানের মতো। আমরা সব কাজ যত্ন নিয়ে করি। দর্শকদের ভালো লাগা, সামাজিক সচেতনতা ও বার্তা দেওয়ার জন্যই কাজ করি। কিছু কাজ হয়তো দর্শকদের অগোচরে আড়ালে চলে যায়। আবার কিছু ভালো কাজ তাঁদের চোখে পড়ে। ‘বিয়ের কোনো বয়স নেই’ বা ‘মীমাংসা’—এই নাটকগুলো পারিবারিক মূল্যবোধের গল্প। আমরা চেষ্টা করি এমন কাজ করতে। কাজ করার সময় দর্শক এটি লুফে নেবে কি না, তা আমরা ভাবি না। তবে দর্শক যখন গ্রহণ করেন, তখন খুব ভালো লাগে। রাত জাগার ক্লান্তি তখন সার্থক মনে হয়।

image

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এমন কোনো চরিত্র আছে যেখান থেকে নিজেকে বের করতে অনেক দিন সময় লেগেছে? বাস্তব জীবনে কি কোনো চরিত্রের প্রভাব পড়েছে?

আমার ক্ষেত্রে বাস্তব জীবনে কখনও চরিত্রের প্রভাব পড়ে না। আমার ব্যক্তিজীবন এবং অভিনয় জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। দুটোর মাঝখানে একটি অদৃশ্য দেয়াল আছে। আমি কখনও একটার সাথে অন্যটা মেলাই না। যখন কোনো চরিত্রে রূপান্তর ঘটে, তখন আমি আর চিত্রলেখা গুহ থাকি না। সেই চরিত্রটি হয়ে যাই। চরিত্রটি কীভাবে হাঁটে, বসে বা কথা বলে— সবকিছু তখন ফুটিয়ে তুলতে হয়। কাজ শেষে তা আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না।

আপনাকে ওটিটিতে কম দেখা যায় কেন?

ওটিটি থেকে যে ডাক আসেনি, তা নয়। যে দুই-চারটি কাজের প্রস্তাব এসেছে সেখানে চরিত্রগুলো পছন্দ হয়নি। তাই করা হয়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে কোনো পরিচালক যদি আমাকে কোনো চরিত্রের জন্য মানানসই মনে করেন তবে অবশ্যই করব। আমি একজন অভিনয়শিল্পী। সব মাধ্যমে কাজ করার ক্ষুধা আমার আছে।

image

অনেক সিনিয়র শিল্পী ওটিটি নিয়ে নেতিবাচকতা মনোভাব পোষণ করেন। আপনার মন্তব্য কী?

আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক একজন মানুষ। নেতিবাচকতাকে প্রশ্রয় দিই না। নেতিবাচক কথা শুনতেও চাই না, বলতেও চাই না। এটি আমার পারিবারিক শিক্ষা। আমি ওটিটি বা টিভির মধ্যে কোনো বিভাজন দেখি না। একজন শিল্পী সব মাধ্যমে কাজ করবেন। শিল্পের মূল্য কি টাকা দিয়ে হয়? অবশ্যই সম্মানীর প্রয়োজন আছে। জীবন চালানোর জন্য টাকা লাগবে। চাল, ডাল, মাছ-মাংস কেনার জন্য টাকার দরকার হয়। কিন্তু সবকিছু টাকা দিয়ে বিচার করা যায় না। অনেক শিল্পী আছেন, চরিত্র পছন্দ হলে টাকা ছাড়াও কাজ করতে রাজি হন। তাঁরা চরিত্রের মধ্যে বেঁচে থাকতে চান। শিল্পীদের কোনো বাজার দর হয় না। শিল্পী পারিশ্রমিক নেন না। শিল্পী সম্মানী নেন। তাই এ নিয়ে আমার কোনো অসন্তোষ নেই। সব প্ল্যাটফর্মকেই আমি ইতিবাচকভাবে দেখি।

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার সেলিব্রেটিদের নাটকে নেওয়া হচ্ছে। কীভাবে দেখছেন?

এই ক্ষেত্রে দর্শক সবচেয়ে বড় বিচারক। আমি বিশ্বাস করি, অনেকের জন্মগত প্রতিভা থাকে। তবে সেই প্রতিভাকে চর্চা করতে হয়। এখনকার অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করছে। সেখানে ভালো, মন্দ— দুই-ই আছে। বয়স কম হওয়ায় তারা হয়তো অনেক সময় বুঝতে পারে না। সমাজ ও দেশের জন্য কোনটা করা উচিত— বয়স বাড়লে ঠিকই বুঝবে। আমি কাউকে ছোট করে দেখি না। তবে অভিনয় না শিখলে হয় না। তারা যদি থিয়েটারের কোনো দলের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ শেখে তাহলে নাটকের ইন্ডাস্টি আরও সমৃদ্ধ হবে। শেখার কোনো বয়স নেই। জন্মগত প্রতিভা থাকলেই হয় না। তা ধরে রাখার জন্য চর্চা প্রয়োজন। টিকটক থেকে কেউ উঠে আসলে কোনো সমস্যা নেই। অভিনয়শিল্পীর জীবন জোয়ার-ভাটার মতো। আজকে দর্শক কাউকে মাথায় তুলতে পারে। কালকে আবার নাও চিনতে পারে। এই উঠানামা মেনে নিয়েই কাজ করে যেতে হবে। তবে তাঁদের বুঝতে হবে সমাজের জন্য কোনটা করা উচিত। আমাদের মতো সিনিয়দের দায়িত্ব তাঁদের ভালো-মন্দ বুঝিয়ে দেওয়া।

image

দেশের শোবিজ তারকাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে স্থায়ী হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়া গড়তে চায় না। কারণ কী বলে মনে হয় আপনার? 

আমাদের দেশটা ছোট। অর্থনৈতিক অবস্থান এবং অভিনয়ের জায়গাটা বেশ সংগ্রামের। ছোট দেশ হিসেবে আমরা কিন্তু কম পাইনি। আমাদের প্রজন্ম কুয়োর মধ্যে বড় হয়েছে। বাইরের পৃথিবী দেখেনি। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের হাতে পুরো পৃথিবী। তারা সবকিছুর তুলনা করতে পারে। নিজেদের ক্যারিয়ার নিজেরা ঠিক করে। অভিনয়শিল্পীর সন্তানকে যে অভিনয়শিল্পীই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমাদের আগের প্রজন্মে বাবা-মায়েরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য চাপ দিতেন। আমরা আমাদের সন্তানদের ওপর কিছু চাপিয়ে দিই না। আমরা তাঁদের বলেছি, যা পড়ে তোমরা আনন্দ পাও, তা-ই করো। যেসব তারকার সন্তানরা মিডিয়ায় আসেনি তারা হয়তো বাবা-মায়ের কষ্ট দেখে অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। আমাদের সন্তানরা যে পেশায় যাক না কেন, কোনো আপত্তি নেই। তবে তারা যেন শিল্পকে ভালোবাসে তারা যেখানেই যাক, বাবা-মায়ের দেওয়া মূল্যবোধ আর সম্মানটা যেন বজায় রাখে। আমরা তাদের শুধু এই শিক্ষাটুকুই দিয়েছি।

বর্তমান ব্যস্ততা 

দীপ্ত টিভিতে ‘খুশবু’ নামের একটি মেগা সিরিয়াল করছি। বৈশাখী টিভিতে ‘গৃহযুদ্ধ’ নামে আরেকটি মেগা সিরিয়াল শুরু হবে। সম্ভবত এ মাসেই প্রচারে আসবে। এছাড়া মহিন খানের পরিচালনায় ‘কিপটা ফ্যামিলি’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শুরু হচ্ছে ২৫ তারিখ থেকে। এর বাইরে খণ্ড নাটক, ৭ পর্বের ধারাবাহিকে কাজ করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্যচিত্রের ধারাভাষ্য দেওয়ার কাজও করছি।

ইএইচ/আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর