রুমিন ফারহানাকে কখনও থামতে শোনা যায়নি। ‘রইদ’ সিনেমাটি দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সিনেমা শেষে অভিনেত্রী নাজিফা তুষিকে জড়িয়ে ধরেছেন এই সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ। উত্তরা সেন্টার পয়েন্টের স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘রইদ’ উপভোগ করেছেন এই রাজনীতিবিদ।
গতকাল (১৩ জুন) শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরা সেন্টার পয়েন্টের স্টার সিনেপ্লেক্সে ছিল ‘রইদ’ ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী। ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ছবিটি দেখতে এ দিন উপস্থিত হয়েছিলেন সুধীজনেরা। তাদের অনেকেই জানান, ‘রইদ’ গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে তাদের।
বিজ্ঞাপন
সিনেমাটি দেখার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি ‘রইদ’কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী চলচ্চিত্র বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সিনেমা-পাগল মানুষ। অনেক বছর পর এমন একটি সিনেমা দেখলাম, যা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। “রইদ” আমাকে অভিভূত করেছে। ক্যামেরার সামনে আমি কবে শেষ এভাবে বাকরুদ্ধ হয়েছিলাম মনে নেই। আজ ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো, আমি কী বলব বুঝে উঠতে পারছি না।’

সিনেমাটিকে প্রচলিত কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করতে যেন হিমশিম খেতে হলো সুবক্তা রুমিন ফারহানাকে। তার ভাষায়, ‘ভালো’, ‘খারাপ’ কিংবা ‘চমৎকার’ কোনো শব্দই ‘রইদ’-এর অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারবে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আসলে জানি না কীভাবে এই সিনেমার প্রতিক্রিয়া জানাবো। আমি সিনেমাপ্রেমী মানুষ। অবসর সময় পেলেই সিনেমা দেখি, বই পড়ি। কিন্তু অনেক দিন পর এমন একটি চলচ্চিত্র দেখলাম, যা আমাকে ভেতর থেকে আলোড়িত করেছে। “রইদ” আমাকে আবেগতাড়িত করে তুলেছে।’
ছবিটির নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সিনেমাটির অভিনয়, চরিত্রনির্মাণ ও চিত্রগ্রহণ এতটাই নিখুঁতভাবে করা হয়েছে যে, আলাদা করে কোনো একটি দিককে মূল্যায়ন করা কঠিন। তার ভাষায়, ‘আমি সিনেমার চিত্রগ্রহণকে অভিনয় থেকে আলাদা করতে পারছি না। সাদু চরিত্রটিকে অভিনেতা থেকে আলাদা করতে পারছি না। তুষিকেও সাদুর স্ত্রীর চরিত্র থেকে আলাদা করে ভাবতে পারছি না, সবকিছু যেন এক হয়ে গেছে। তাই কোনো একটি বিষয়কে আলাদা করে প্রশংসা করার সুযোগ নেই।’

‘রইদ’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন অভিনয়শিল্পী সারা যাকের, ফেরদৌসী মজুমদার, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশিদ, তারিক আনাম খান, ত্রপা মজুমদার, মেহের আফরোজ শাওন, শিল্পী কনক আদিত্য, তানযীর তুহিন, মিনার রহমান, করপোরেট ব্যক্তিত্ব রুবাবা দৌলা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ, সায়মন জাকারিয়া, নারী অধিকারকর্মী শিরিন পারভিন, কবি টোকন ঠাকুর, চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু প্রমুখ।




