রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সাক্ষাৎকার

সিন্ডিকেট করা, এর ওর বিরুদ্ধে বলা আমার দ্বারা সম্ভব না: আ খ ম হাসান 

রাফিউজ্জামান রাফি
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সিন্ডিকেট করা, এর ওর বিরুদ্ধে বলা আমার দ্বারা সম্ভব না: আ খ ম হাসান 
ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইনে’র ট্রেলারে আ খ ম হাসানের এক ঝলক ছোটগল্পের মতো আবেদন ছড়িয়েছে। সেইসঙ্গে আছড়ে পড়েছে অভিমানের ঢেউ। ভক্তদের আক্ষেপ— এতদিনে এলেন! পাশাপাশি অনেকেই ওটিটি মাধ্যমে তাকে জানাচ্ছেন উষ্ণ অভিনন্দন। সেসব নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে ফোনালাপ জমেছিল জনপ্রিয় এ অভিনেতার। 

‘লাইফলাইনে’র ট্রেলারে আপনাকে এক ঝলক পেয়ে-ই নেটিজেনরা মুগ্ধ। কেমন লাগছে? 


বিজ্ঞাপন


বেশ ভালো লাগছে। ওটিটি মাধ্যমে কাজ সবে শুরু করলাম। এর আগে বঙ্গতে একটি কাজ (‘তাজমহল’) করেছি। ‘লাইফলাইনে’র ট্রেলার প্রকাশের পর যে ধরনের সাড়া পাচ্ছি সেটা নিঃসন্দেহে মন ভালো করে দেওয়ার মতো। 

akhomo-hassan-lead-lifeline-20260611204327

কাজটিতে যুক্ত হওয়ার গল্প জানতে চাই… 

হঠাৎ একদিন পরিচালক কাজী আসাদ ফোন করেন। কাজটি নিয়ে কথা হয়। এরপর স্ক্রিপ্ট পাঠান। আমি পড়ি। খুব ভালো লাগে। সচরাচর যে ধরণের কাজ করা হয় সেগুলো থেকে একেবারেই আলাদা। রাজি হয়ে যাই। 


বিজ্ঞাপন


চরিত্রটি সম্পর্কে বলা যাবে? 

একদম নিষেধ আছে। কিছুই বলা যাবে না। এটুকু বলতে পারি সবার ভালো লাগবে। ২১ তারিখ বাবা দিবসে প্রকাশ পাবে। আমার মনে হচ্ছে বাবা দিবসের জন্য একটি মাইলফলক প্রোডাকশন হবে। 

ওটিটিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

খুবই ভালো। যদিও অনেক কষ্ট হয়। কেননা আমরা একরকমভাবে কাজ করে অভ্যস্ত। অন্যদিকে ওটিটিতে খুব ধরে ধরে, ঠিকঠাক চিন্তা করে কাজ হয়। সেজন্য খাটুনি থাকে। কিন্তু দিন শেষে প্রোডাকশন দেখলে সব কষ্ট উবে যায়। 

hasan-20190804133658

নেটিজেনদের আক্ষেপ একসময় ‘ভবের হাট’, ‘আলতা সুন্দরী’, ‘সাকিন সারিসুরি’সহ দুর্দান্ত সব নাটকে কাজ করলেও পরে অতিরঞ্জিত কমেডিতে নিজেকে আটকে ফেলেন… 

২০১৭ থেকে ইউটিউবে নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখনও ওটিটি আসেনি। যেহেতু এটা আমার পেশা তাই ভালোমন্দ মিলিয়ে অনেক ধরণের কাজ করতে হয়েছে। পরে বুঝলাম আমাকে একই ধরনের কাজ বারবার করতে হচ্ছে। সেটা আমার কাছে বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দর্শকের কাছে ওই পর্যায়ে চলে গেছে। তখন একটু বেছে কাজ শুরু করলাম। ওই সময়-ই কাতলীয়ভাবে ওটিটি থেকে কড়া নাড়ল। 

ওটিটি মাধ্যমে এত দেরিতে কেন? 

দেরির কারণ কিছুই না। সবকিছু আমার ইচ্ছায় হয় না।

সিন্ডিকেট দায়ী? 

যে শব্দটি (সিন্ডিকেট)বললেন সেটাই। একটা বলয় আছে। এই বলয়ের মধ্যে আমরা-আমরাই কাজ করব অন্য কেউ আসবে না, অন্যরা আসতে চাইলেও আসা যাবে না— এরকম প্রবণতা আছে। তবে আমি যে কাজটি করেছি সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল চরিত্রটির জন্য আমাকেই প্রয়োজন। ফলে কোনো ইন্টারফেয়ারের সুযোগ ছিল না। 

a-ko-mo-hasan-20190812093629_(1)

আপনিও তো সিন্ডিকেটের অংশ হতে পারেন… 

আমার দ্বারা এগুলো হবে না। সিন্ডিকেট করা, গিয়ে বসে থাকা, সময় দেওয়া, এর ওর বিরুদ্ধে বলা— আমার দ্বারা সম্ভব না। ইচ্ছা করলেও পারব না। কারণ এটা আমার রক্তে নেই। 

৩০ বছর আগে বাসে ঝুলে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে থিয়েটার করতেন। কী পাবেন না পাবেন ভাবতেন? 

প্রাপ্তি নিয়ে ভাবিনি। যখন থিয়েটার করেছি তখন উন্মাদনার মধ্যে ছিলাম। ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এখন যখন ভাবি— কী করে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসে ঝুলে এসেছি! কীভাবে সম্ভব! চিন্তাই করতে পারি না। আমি মোশাররফ করিম একই সময়ের। কী হবে না হবে, কী পাব না পাব— আমাদের ভাবনায় কখনও আসেনি। থিয়েটারের মধ্যে ডুবে গিয়েছিলাম। 

এই মুহূর্তে এসে প্রত্যাশার অংক মেলাতে বসেন? 

মেলাই না। তবে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। যা যেভাবে চেয়েছি আল্লাহ সেভাবে দিয়েছেন। আমি অভিনয় করব, সবাই আমাকে পছন্দ করবে, এখান থেকে জীবন অতিবাহিত হবে, আমার ফ্যামিলি চলবে। সবই হয়েছে। এটা একজন শিল্পীর জন্য বিশাল প্রাপ্তি। 

akhomo-hassan-3-20260611203601

একটা সময় থিয়েটার থেকে তৈরি হয়ে শিল্পীরা দৃশ্যমাধ্যমে আসতেন। প্রতিভা দেখে সুযোগ দেওয়া হতো। আজকাল সামাজিক মাধ্যম থেকে আসেন অনেকে। সুযোগ দেওয়া হয় ফলোয়ার বিবেচনা করে। কীভাবে দেখেন? 

এটা খুবই নেতিবাচক। আগে যারা অভিনয়ে আসত তাদের একটা স্ট্রাগল ছিল। স্ট্রাগলিং পিরিয়ড পার করে একটা জায়গায় থাকত। ফলে স্থায়িত্ব থাকত। সহজে মচকাত না। আমি, মোশাররফ করিম— আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি তারা কিন্তু এখনও আছি। কারণ আমাদের স্ট্রাগল ছিল। এখন হুট করে আসে হুট করে চলে যায়। কারণ তাদের ওই কষ্ট ত্যাগ ভালোবাসা— কোনোটাই নেই। 

ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। 

ওটিটি-সিরিয়াল মিলিয়ে কয়েকটি কাজের কথা হচ্ছে। জুলাইয়ের দিকে ওটিটিতে আরেকটি কাজ আছে। এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কিছু জানানো বারণ। 

আরআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর