রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

এটা আমাদেরই গল্প

সাকসেস পার্টি জমে উঠেছিল সামির-মেহরিন-ফাহাদ-সায়রার খুনসুটিতে 

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সাকসেস পার্টি জমে উঠেছিল সামির-মেহরিন-ফাহাদ-সায়রার খুনসুটিতে 

‘এটা আমাদেরই গল্প’ সিরিয়ালটির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক গল্পের ধারাবাহিকের সুদিন ফিরিয়ে এনেছেন নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। দর্শকরা সামির-মেহরিন-ফাহাদ-সায়রাদের সুখ-দুঃখে হাসার পাশাপাশি চোখ ভিজিয়েছেন। সিরিয়ালটির সাকসেস পার্টিও জমে উঠেছিল সামির-মেহরিন-ফাহাদ-সায়রার খুনসুটিতে। 

গতকাল ৬ জুন রাজধানীর গুলশানে আয়োজন করা হয় ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর সাকসেস পার্টির। উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ালটির বিভিন্ন চুরিত্রে রূপদানকারী অভিনয় শিল্পীরা। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে করছিলেন মত বিনিময়। তার-ই ফাকে খায়রুল বাসার-কেয়া পায়েল-ইরফান সাজ্জাদ-সুনেরাহ বিনতে কামাল যেন ঢুকে যান চরিত্রে। 


বিজ্ঞাপন


ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘কাজ করতে করতে কীভাবে যেন সবাই শক্তিশালী বন্ধনে জড়িয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়নি অন্য পরিবারের কেউ। এমন একটি প্রোডাকশনের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। মনে হচ্ছে অনেক বড় একটি সিনেমা করে ফেলেছি যেটি বিশ্বব্যাপী এত হিট হয়েছে যে রাস্তায় বের হতে পারি না। মানুষ আগে থেকেই চিনত। তবে এখন ক্যারেক্টারের নামে চেনে। এই সিরিয়াল থেকে এটাই অনেক বড় পাওয়া। রাজ ভাইয়ের (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ) প্রতি কৃতজ্ঞ যে ফাহাদ চরিত্রটি উনি আমাকে দিয়েছেন।’ 

এরপরই এক সংবাদকর্মী সায়রার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ফাহাদের প্রাক্তন মেহরিন এবং মীরার প্রসঙ্গও আনেন। বিষয়টি নিয়ে বলতে গেলে পাশ থেকে ফোড়ন কেটে খায়রুল বাসার বলেন, ‘আপনার জন্য বোধহয় প্রশ্নটা কঠিন হয়ে গেল!’ সেইসঙ্গে সায়রা চরিত্রে রূপদানকারী সুনেরাহ বিনতে কামালের উদ্দেশে বলেন, ‘ভাবি এদিকে চলে আসেন। রাজকুমারী ভাবি। দুজনের কাছ থেকে শুনি। আপনাদের বোঝাপড়া কতদূর সেটাও বুঝি।’ 

পাশ থেকে ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘বোঝাপড়া আমার সাথে ঠিক আছে। কিন্তু এরপর থেকে নাটক তুমি-ই বেশি করেছ। সুনেরাহ আসার পর মেহরিন চরিত্রের কেয়া পায়েলও যোগ দেন। তাই দেখে বাসার বলেন, ‘ডাকার আগেই মেহরিন চলে এসেছে। কী টান!’ চারজনের খুনসুটি বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। মনে হতে থাকে এটা আমাদেরই গল্পে’র কোনো এপিসোড চলছে।


বিজ্ঞাপন


এর মাঝে এক সংবাদকর্মী দর্শকের চোখ ভেজানোর প্রসঙ্গ ছুড়ে দেন ইরফান সাজ্জাদের উদ্দেশে। অভিনেতা বলেন, ‘দর্শক কাঁদবেন কি কাঁদবেন না সেটা ভেবে আমরা অভিনয় করিনি। কিন্তু বাবার যে ক্রাইসিস ছিল সেটা খুব ইমোশনাল। চেষ্টা করেছি গল্পের ভেতরে থেকে জিনিসটা ফিল করে কাজ করার। কখন নাকে চোখে পানি এলো বুঝিনি। সিরিয়ালটি দেখে প্রত্যেক পরিবার কেঁদেছে। আমার আব্বা-আম্মা কেঁদেছেন। আমি খুবই আনন্দিত যে আমার বাবা-মা অনেকদিন পর একটি নাটক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন। আমাকে বলেছেন, তুমি এ ধরণের নাটক আর করো না।’ তখন তৃপ্তির ছাপ অভিনেতার চেহারায়। 

ফাহাদের কাঁধে বাবার লাশ, আপ্লুত পরিচালক দিলেন মায়ের লাশ বহনের ছবি

খায়রুল বাসার যোগ করেন, ‘পরিবারে দুঃখ কষ্ট থাকলে বোঝা যায় দায়িত্ববোধ ভালোবাসার জায়গাটা কোথায়। এরপর প্রশ্ন করবেন আমার ভাবিকে এবং আমার মেহরিনকে। ভাবি আপনার নাম সুনেরাহ থেকে সায়রা হয়ে গেছে।’ সুনেরাহর উদ্দেশে বলেন বাসার। 

সুনেরাহও খোলেন অভিজ্ঞতার ঝাপি। বলেন, ‘‘সত্যিই, আমি যেখানেই যাই, সবাই সায়রা বলে ডাকে। ক’দিন আগে এক আন্টিও ‘সায়রা’ বলে ডেকে প্রশংসা করলেন। আমি উনাকে বললাম, আন্টি আমার নাম তো সুনেরাহ। তিনি বলেন, না না, আমি তোমাকে সায়রা বলেই ডাকব। এরকম আরো অনেকেই বলেন।’’

মেহরিনরূপী কেয়া পায়েল পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এত সুন্দর একটি চরিত্র আমাকে দেওয়ার জন্য রাজ ভাইকে ধন্যবাদ। প্রত্যেক এপিসোড মানুষ সুন্দরভাবে নিয়েছে। আমাদের রোমান্টিক দৃশ্যগুলো দেখে হেসেছেন। নতুন যারা বিয়ে করেছেন তারাও রোমান্টিক হয়ে গেছেন। শেষের এপিসোডগুলো দেখে মানুষ কেঁদেছে।’ 

খায়রুল বাসারের উদ্দেশে কেয়া বলেন, ‘আমাদের জুটি মানুষ এত ভালোভাবে গ্রহণ করেছে এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই তোমারও ভালো লেগেছে।’ অভিনেতা ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা নাড়তেই অভিনেত্রী যোগ করেন, ‘পাশাপাশি এই পরিবারটা দেখে মনে হচ্ছে আজকে আরেকটি এপিসোডের শুটিং করে ফেলি। শুটিংটা মিস করছি। প্রত্যেক সপ্তাহে নতুন এপিসোড আসত। মানুষ জানতে চাইত এরপর কী হবে। এগুলো মিস করি।’ 

তিনি বলেন, ‘কেয়া পায়েলের বাইরেও মানুষ আমাকে মেহরিন হিসেবে জায়গা দিয়েছে। আজ যখন আমার সেলুনে গেছি তখন অনেকে বলছিলেন, আপু আপনাকে মেহরিনের মতো লাগছে।’ 

খায়রুল বাসার যোগ করেন, ‘বউ হিসেবে মেহরিন ভালো। বউ মেহরিনের মতো এবং জামাই সামিরের মতো হওয়া উচিত। যেখানেই যাও সে পরিবারের মেহরিন হয়ে থেকো।’ কেয়া পায়েলের উদ্দেশে বলতেই হাসির হুল্লোড় পড়ে। সব মিলিয়ে বলা যায় ‘এটা আমাদেরই গল্পে’র সাকসেস পার্টি যেন জমে উঠেছিল সামীর-মেহরিন-ফাহাদ-সায়রার খুনসুটিতে।

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর